এসআই শহিদুলের দুই ছেলে বিসিএস ক্যাডার, আরেকজন পড়েন মেডিকেলে
৪৫তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামের যমজ ছেলে। এদের একজন শুভ পুলিশ ক্যাডারে অরেকজন শান্ত শিক্ষা ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। এখন তারা গেজেটের অপেক্ষায়।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) পুলিশ সদস্য শহিদুল সময় সংবাদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানরা পড়াশোনায় অনেক পরিশ্রম করেছে বলেই আজকের এই সাফল্য। তাদের মা ২০২০ সালে মারা যান। আমি কর্মস্থলে থাকায় তাদের সময় দিতে পারিনি। নিজেদের শ্রমেই এই জায়গায় আসতে পেরেছে ওরা। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া। গেজেট হওয়ার পর তারা আমার মতোই দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।’
শহিদুল আরও বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। দুই সন্তানই নটরডেম কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছে। ৪৫তম বিসিএস তাদের প্রথমবার ছিল। ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিতেও তারা উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের একজন রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের লেকচারার, আরেকজন সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার। আমার আরেক ছেলে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছে।’
তরুণদের উদ্দেশে সফল এই বাবা বলেন, অধ্যাবসায় থাকলে যেকোনো কিছুতেই সাফল্য আনা যায়। মনোযোগ এবং শ্রম দিলে বিসিএস ক্যাডার হওয়া কঠিন কিছু না।
৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ২০২৩ সালের ১৯ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
ওই বছরের ৬ জুন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৭৮৯ জন লিখিত পরীক্ষায় বসেন গত বছর ২৩ জানুয়ারি, যা শেষ হয় ৩১ জানুয়ারি। এতে ৬ হাজার ৫৫৮ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন।
গত ২৬ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২ হাজার ৩০৯টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ৮০৭ জনকে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন