এসআই–কনস্টেবলের ভাগ-বাঁটোয়ারা, টেলিগ্রামের হাতে অডিও প্রমাণ
পুলিশের তল্লাশিতে জব্দ ইয়াবা উধাও
কক্সবাজার সদর মডেল থানার এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তল্লাশির সময় জব্দ করা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইয়াবা গুনে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন, কক্সবাজার সদর মডেল থানার এএসআই গিয়েনময় এবং কনস্টেবল মংলা, শহিদসহ মোট চারজন পুলিশ সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল–সংলগ্ন উত্তরন এলাকার প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই সময় ঢাকাইয়া দুইজন ও মামুন নামের এক টমটমচালক সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা তল্লাশির জন্য সামনে দাঁড়ালে পুলিশ দেখে টমটমের পেছন দিক থেকে একটি প্যাকেট ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ সদস্যরা প্যাকেটগুলো কুড়িয়ে নেন। পরে টমটমটি থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয়। তবে কোনো মামলা বা জব্দ তালিকা ছাড়াই টমটমটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
একজন স্থানীয় দোকানদার জানান, “পুলিশ মালগুলো কুড়িয়ে নেওয়ার পর টমটমে বসেই প্যাকেট খুলে কিছু একটা গুনতে দেখা গেছে। এরপর সবাই চলে যায়।”
এদিকে হাতে আসা একটি কল রেকর্ডে শোনা যায়, জব্দ করা ইয়াবার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৭৫ পিস। অডিওতে বলা হয়, অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এএসআই গিয়েনময়, কনস্টেবল মং ও শহিদ। টমটমে বসেই প্যাকেট খুলে ইয়াবা গুনে চারজন নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করেন বলে অডিওতে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কনস্টেবল মংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“আমরা সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত উত্তরন এলাকায় ছিলাম। তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
অভিযুক্ত এএসআই গিয়েনময়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এরকম কোনো ঘটনা আমার চোখে পড়েনি। কনস্টেবলরা শুধু টর্চলাইট মেরে ১০-১৫ মিনিট তল্লাশি করেছিল। ইয়াবার কোনো বিষয় আমি দেখিনি।”
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমিউদ্দিন বলেন,পুলিশের দায়িত্ব হলো মাদক জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। আমি বর্তমানে চট্টগ্রামে দুই দিনের প্রশিক্ষণে আছি। ফিরে এসে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) অলক বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদক আত্মসাতের এমন অভিযোগ কক্সবাজারে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। সাধারণ মানুষ অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন