খুঁজুন
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র, ১৪৩২

ইরানের হাত ছাড়বে না রাশিয়া, দিল নতুন বার্তা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
ইরানের হাত ছাড়বে না রাশিয়া, দিল নতুন বার্তা
শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলা এবং চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে নিজেদের পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংস্থাটির প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে ইরানে তাদের চলমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা হবে না। রাশিয়ার এই অবস্থানকে যুদ্ধের ময়দানে তেহরানের প্রতি মস্কোর পরোক্ষ এক বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোসাটম বর্তমানে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট (২ ও ৩ নম্বর ইউনিট) নির্মাণের কাজ তদারকি করছে। এর আগে বুশেহরে ইরানের একমাত্র সচল ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক ইউনিটটি রুশ প্রযুক্তিতেই নির্মিত হয়েছিল।

লিখাচেভ বলেন, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণ রোসাটমের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এখন ইরান ছেড়ে যাওয়ার সময় নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা মূলত একটি বৈশ্বিক পরিস্থিতিরই অংশ মাত্র।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পর নিরাপত্তা বিবেচনায় বুশেহর প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে ধীর করা হয়েছিল।

রোসাটম প্রধান জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে চলতি সপ্তাহে প্রায় ১৫০ জন কর্মীকে আকাশপথ বন্ধ থাকায় স্থলপথে আর্মেনিয়া হয়ে রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প এলাকায় এখনো প্রায় ৪৫০ জন বিশেষজ্ঞ কর্মী অবস্থান করছেন, যারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি দিকগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।

অ্যালেক্সেই লিখাচেভ আরও বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর কোনো ধরনের সরাসরি হামলা হলে তা চেরনোবিল স্টাইলের এক আঞ্চলিক পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কেন্দ্রটিতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর তেজস্ক্রিয়তা কেবল ইরান নয়, বরং পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ করা হয়েছে যাতে বেসামরিক এই পারমাণবিক স্থাপনাটিকে যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখা হয়।

মূলত রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইরানে মোট আটটি পারমাণবিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বুশেহরের পর ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও চারটি ইউনিট নির্মাণের জন্য একটি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তিও সম্পাদিত হয়েছে।

নববধূ মিতুসহ তিনজনের দাফন সম্পন্ন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
নববধূ মিতুসহ তিনজনের দাফন সম্পন্ন
শেয়ার করুন

বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমের খুলনায় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনার কয়রার নাকশা গ্রামে বাড়ির পাশে মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয়রা জানায়, সালামের মা রাশিদা বেগম, মেয়ে নববধূ মিতু ও ছোট মেয়ে লামিয়ার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নাকশায় আনার পর আজ সকালে তাদের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কনের নানির মরদেহ তাদের গ্রামে দাফনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ রকম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এই প্রথম। যেখানে উৎসবের আনন্দ থাকার কথা সেখানে শোকে স্তব্ধ মানুষ। আব্দুস সালাম ভাই মাঝে মাঝে মূর্ছা যাচ্ছেন। মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাদের জন্য মানুষ দোয়া করছেন। দুই পরিবারের যারা মারা গেছেন তাদেরকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মোকাম দান করুক-আমিন।

জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (সাব্বির)। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন। মাইক্রোবাসে ছিল কয়রার নাকশা গ্রামের মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। আর বাকি বরের পরিবারের ৯ জনের মরদেহ মোংলায় নেওয়া হয়। সেখানেও তাদের দাফনের অপেক্ষায় রয়েছে মানুষ।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত : ঘরে-বাইরে চাপে ট্রাম্প

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত : ঘরে-বাইরে চাপে ট্রাম্প
শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের গর্জন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় যান্ত্রিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল মার্কিন বিমান বাহিনী। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে পশ্চিম ইরাকের আকাশে ওড়ার সময় বিধ্বস্ত হয়েছে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ— একটি ‘KC-135 রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট’।

যুদ্ধবিমানের প্রাণশক্তি জোগানো এই বিশালকার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের পতন কেবল কারিগরি ক্ষতিই নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল কৌশলগত ও মানসিক ধাক্কা। কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের হামলা ছাড়াই মাঝ-আকাশে দুই বিমানের এই সম্ভাব্য সংঘর্ষ এখন পেন্টাগনের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান চলাকালীন ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশালাকার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (Refueling Aircraft) বিধ্বস্ত হয়েছে।

‘বিমানে থাকা আরোহীদের মধ্যে কেউ বেঁচে আছেন কি না বা প্রাণহানি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একটি KC-135 রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান নিখোঁজ বা বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড অবগত আছে।’

২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে মার্কিন বিমান বাহিনীর বেশ কিছু রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট। ছবি : সংগৃহীত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন বন্ধুভাবাপন্ন আকাশসীমায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

বিবৃতিটির ভাষা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই দুর্ঘটনায় দুটি বিমান জড়িত ছিল; সম্ভবত সেগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে অথবা খুব কাছ দিয়ে উড্ডয়ন (Close manoeuvres) করার সময় এই বিপত্তি ঘটে। তবে, দ্বিতীয় বিমানটি ‘নিরাপদে অবতরণ করেছে’ বলে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, ‘এই দুর্ঘটনা শত্রুভাবাপন্ন কোনো পক্ষের হামলা (Hostile fire) কিংবা নিজেদের বাহিনীর ভুল নিশানার (Friendly fire) কারণে ঘটেনি।’

এই বিমান দুর্ঘটনার আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, চলমান এই সামরিক অভিযানে তাদের সাতজন সদস্য নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আরও ১৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের আঘাত গুরুতর বলে জানিয়েছেন পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে বৃহস্পতিবারের এই বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য সবশেষ বড় ধাক্কা।

সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই দুর্ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চালানো হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত বিমানে থাকা আরোহীদের (সাধারণত তিন থেকে চার জন ক্রু সদস্য থাকেন) ভাগ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে বড় ধরনের বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র একদিন পর ১ মার্চ, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদের বা মিত্রদের ভুল নিশানায় হামলা) ঘটনায় তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল।

সেন্ট্রাল কমান্ড ওই সময় ব্যাখ্যা দিয়েছিল যে, ইরানের পাল্টা হামলার ফলে সৃষ্ট যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত তিনটি ‘F-15E স্ট্রাইক ইগল’ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছিল।

তবে সেই ঘটনায় যুদ্ধবিমানগুলোতে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্য নিরাপদে নিজেদের বের করে নিতে (Eject) সক্ষম হয়েছিলেন এবং পরে তাদের স্থিতিশীল অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উড়ন্ত ফুয়েল স্টেশন : বিপদের মুহূর্তে কীভাবে যুদ্ধবিমানগুলোর ‘ত্রাতা’ হয়ে কাজ করে কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান / ছবি : সংগৃহীত
এক নজরে : KC-135 রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট

KC-135 Stratotanker হলো মার্কিন বিমান বাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান চালিকাশক্তি। এটি মূলত একটি ‘উড়ন্ত ফিলিং স্টেশন’, যা যুদ্ধের ময়দানে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোকে মাঝ-আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করে তাদের দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকতে সাহায্য করে।

এটি আকাশে ওড়া অবস্থায় বোমারু বিমান (Bomber) এবং ফাইটার জেটের ট্যাঙ্কে জ্বালানি ভরে দেয়। ফলে যুদ্ধবিমানগুলোকে বারবার মাটিতে নামতে হয় না, যা যুদ্ধের কৌশলে বড় সুবিধা দেয়।

এটি প্রায় ৯০,০০০ কেজি (২ লাখ পাউন্ড) পর্যন্ত জ্বালানি বহন করতে পারে। এই বিমানের পেছনের দিকে একটি লম্বা নল বা ‘বুম’ (Flying Boom) থাকে, যার মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অন্য বিমানের জ্বালানি ট্যাঙ্কের মুখে সংযোগ দেওয়া হয়।

জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি এটি প্রায় ৩৭,০০০ কেজি মালামাল অথবা ৮৩ জন সশস্ত্র সেনা বহন করতে সক্ষম।

ইরাক বা ইরানের মতো বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে টহল বা হামলা চালাতে হয়, সেখানে এই রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট ছাড়া আধুনিক বিমান বাহিনীর টিকে থাকা অসম্ভব।

একটি KC-135 বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৯.৬ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা)। এটি বিধ্বস্ত হওয়া মানে মার্কিন বাহিনীর জন্য একই সঙ্গে বড় আর্থিক লোকসান এবং কৌশলগত শূন্যতা। কারণ, এই রিফুয়েলিং বিমানগুলো ছাড়া ফাইটার জেটগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে টহল দিতে পারে না।

তেহরানে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবনের উল্টোদিকে ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে আছেন এক নারী। ছবি : সংগৃহীত।
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চল যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের আনাগোনা থাকায় এলাকাটি বেশ সংবেদনশীল। মার্কিন প্রশাসন চেষ্টা করছে উদ্ধার অভিযান দ্রুত শেষ করে বিমানের ব্ল্যাক বক্স বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিতে, যাতে তা ভুল হাতে না পড়ে।

ঘরে-বাইরে চাপে হোয়াইট হাউস

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মার্কিন জনগণের কাছে মোটেও জনপ্রিয় নয়। বিভিন্ন জনমত জরিপ দেখাচ্ছে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো যুদ্ধ যা শুরু থেকেই নেতিবাচক রেটিং পেয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, ৯ মার্চ প্রকাশিত কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের (Quinnipiac University) একটি জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছেন। আরও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ৭৪ শতাংশ নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েন বা ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ (ground operations)-এর ধারণাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অন্যান্য জরিপেও একই ধরনের ফলাফল এসেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোস (Ipsos)-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ আমেরিকান এই হামলার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যেখানে মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ এটিকে সমর্থন জানিয়েছেন। বাকিরা এই অভিযানের বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও এই যুদ্ধ নিয়ে বিভাজন দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প বারবার এই সামরিক হামলাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য’ বলে উপস্থাপন করলেও তার দলের অনেক সমর্থক তা মানতে নারাজ।

জনপ্রিয় টক-শো সঞ্চালক টাকার কার্লসনের মতো প্রভাবশালী রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বরাও এই যুদ্ধের পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন / ছবি : সংগৃহীত।
টাকার কার্লসনের মতো প্রভাবশালী রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বরাও এই যুদ্ধের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কার্লসন এমনকি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে, উপদেষ্টারা সম্ভবত ট্রাম্পকে ভুল বুঝিয়ে এই যুদ্ধের পথে ঠেলে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের বিষয়ে টাকার কার্লসন বলেন, ‘তাকে (ট্রাম্পকে) এমন সব জনমত জরিপ দেখানো হচ্ছে যেখানে বোঝানো হচ্ছে যে, এই যুদ্ধ তার জন্য ৯০-১০ ব্যবধানের এক বিশাল বিজয় বয়ে আনবে।’

এবিসি নিউজকে (ABC News) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্লসন এতটাই আক্রমণাত্মক ছিলেন যে, তিনি এই যুদ্ধকে ‘পুরোপুরি জঘন্য এবং পৈশাচিক’ বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্পও দমে যাওয়ার পাত্র নন; তিনি তার সমালোচকদের কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি কার্লসনের মতো যারা নিজেদের ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) আন্দোলনের অংশ মনে করেন, তাদেরও তিনি ছাড় দেননি। এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘মাগা (MAGA) মানে হলো আমেরিকা ফার্স্ট (সবার আগে আমেরিকা), আর টাকার কার্লসন এর ধারের কাছেও নেই।’

তবে প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসন জনমনে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হিমশিম খাচ্ছে। কেন এই সামরিক অভিযান প্রয়োজন ছিল, তার সপক্ষে তারা নানারকম যুক্তি দেখালেও সাধারণ মানুষকে তা খুব একটা আশ্বস্ত করতে পারছে না।

লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর আগুনের গোলপিণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ছে। ছবি : রয়টার্স।
এক জনসভায় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানকে যদি এখনই মোকাবিলা করা না হতো, তবে বিশ্বে ‘পারমাণবিক যুদ্ধ’ শুরু হয়ে যেত। অন্য একটি অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তি দেখান যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে করা সব আলোচনা ছিল পণ্ডশ্রম; যদিও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি ছিল যে তারা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল হামলা চালাতে যাচ্ছে— সেটি ‘জানতে পেরেই’ যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগে আক্রমণ শুরু করে। যদিও পরে তিনি নিজের এই মন্তব্য থেকে সরে আসেন।

এই যুদ্ধের ভয়াবহতায় এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনার পাশাপাশি আনুমানিক ১,৩৪৮ জন ইরানি এবং ১৫ জন ইসরায়েলি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা।

মির্জা আব্বাসকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
মির্জা আব্বাসকে চিকিৎসার জন্য  সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি
শেয়ার করুন

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। শুক্রবার (১৩ মার্চ) তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক বার্তায় এমনটা জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, মির্জা আব্বাসকে ১৩ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে সিঙ্গাপুর নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

 

এর আগে,বুধবার ইফতারের সময় পানি পান করার সময়ই হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে মির্জা আব্বাসকে দেখতে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর কাছে তার শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মহান রবের নিকট মির্জা আব্বাসের আশু আরোগ্য কামনা করেন। জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানার সভাপতি ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।

 

এছাড়া মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।