মায়ের পাশেই ঘুমিয়ে ছিল শিশু হাবিবা, নার্সের ভুলে ভাঙল না আর ঘুম!
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাঁকা হয়ে যাওয়া আঙুল সোজা করতে এসে এক নার্সের ভুল ইনজেকশনে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার মা-বাবা। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারি হাবিবা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। আজ সকাল ৯টায় তার অপারেশনের কথা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী অপারেশনের অ্যানেসথেশিয়া বা বিশেষ ইনজেকশন ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) দেয়ার কথা থাকলেও, নার্স ইয়াসিন ওয়ার্ডেই শিশুটিকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এর পরপরই নিথর হয়ে যায় হাবিবা।
নিহত শিশুটির মা জরিনা বেগম বলেন, ‘ডাক্তার আইসা বলতেছে ওর রতা আজ ওটি হবে। আমি বলি জি স্যার, আমার মেয়ের আজ ওটি হবে। কিন্তু ইনজেকশনের পর আমার মেয়ে এরকম হয়ে গেছে। তখন অন্য ডাক্তার বলতেছে অক্সিজেন লাগাও তাড়াতাড়ি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে ঘুমে ছিল। ঘুমের মধ্যে নার্স ইনজেকশন দিছে। যখন ইনজেকশন দেয় তখন আমার মেয়ে হাত নাড়াইছে। আমি এখানে আর এখানে ধরছি। উনি ওই ইনজেকশনটা দিল। এর পরে আমার মেয়ে আর নাই।
হাবিবার বাবা কামরুজ্জামান আহাজারি করে বলেন, ‘সুস্থ-সবল মেয়েটাকে শুধু একটা আঙুল সোজা করার জন্য হাসপাতালে এনেছিলাম। কিন্তু ভুল চিকিৎসায় আমার কলিজার টুকরো আজ লাশ হয়ে পড়ে আছে। আমি এর বিচার চাই।’
এ ঘটনায় বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শেহাব উদ্দীন। তিনি জানান, কারো সঙ্গে কথা না বলেই শিশু হাবিবাকে অ্যানেসথেশিয়া ইনজেকশন দিয়েছেন নার্স ইয়াসিন। পরিচালক বলেন, ‘এক বাক্যে এটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং চরম অবহেলা। অভিযুক্ত নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও প্রশাসনিক সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, শিশুটির বাবা থানায় এসেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন