খুঁজুন
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ২ চৈত্র, ১৪৩২

হত্যা মামলার আসামি এমপির সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
হত্যা মামলার আসামি এমপির সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ
শেয়ার করুন

রাজশাহীর মোহনপুরে জামায়াত কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সেলফি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রাসেল শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী বিমানবন্দরে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশে রওনা।’

 

গত ৭ মার্চ শনিবার রাতে মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মো. আলাউদ্দিন নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হন। রাইসুল ইসলাম ওই মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি। নিহত আলাউদ্দিন উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।

 

ঈদের নামাজে ইমামতি করা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আসামি করা হয়েছে রাইসুল ইসলামকে।

অভিযোগে বলা হয়, সংঘর্ষের সময় আলাউদ্দিনের বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় থানায় আরও দুইটি মামলা দায়ের করা হয়।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফেরার সময় বিমানবন্দরে এমপি শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে সেলফি তোলেন রাইসুল ইসলাম। পরে গাড়িবহরের সঙ্গে তিনি মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে কেশরহাটে একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। কেশরহাট পৌর বিএনপির আয়োজিত ওই ইফতার মাহফিলে হত্যা মামলার অন্য আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন জানা গেছে।

‎এদিকে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, হত্যা মামলার আসামিরা জামিন না নিয়েই প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় তারা বিস্মিত। কেশরহাট পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি এয়ারপোর্ট থেকে মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে ইফতার মাহফিলে গেলেন, আর পুলিশ নাকি তাকে খুঁজে পাচ্ছে না- বিষয়টি আমাদের কাছে বিস্ময়কর। এতে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

‎এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে রাইসুল ইসলাম বলেন, মামলায় এখনো তার জামিন হয়নি, তবে হাইকোর্ট থেকে জামিন হয়ে যাবে। জামিন না নিয়েই প্রকাশ্যে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা এবং ছবি পোস্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে ফোন কেটে দেন এবং পরে ফেসবুক থেকে ছবিটি সরিয়ে ফেলেন।

 

 

 

অন্যদিকে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, বিমানবন্দরে অনেক নেতাকর্মী ছিলেন। কে তার সঙ্গে সেলফি তুলেছেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

‎জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন মারা গেছেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দাবি করে তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলাটা সঠিক না। আগে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসুক। তারপর জানা যাবে তিনি কিভাবে মারা গেছেন।

এসব বিষয়ে মোহনপুর থানার ওসির দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক মোদাশ্বের হোসেন খান জানান, আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র তাদের কাছে নেই। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামিরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

‎বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি জানান, বিমানবন্দর মোহনপুর থানার আওতার মধ্যে নয়। আর ইফতার মাহফিলে তারা উপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।

রামুতে জিহাদ হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ‘টিকটকার’ আঁখি গ্রেপ্তার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
রামুতে জিহাদ হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ‘টিকটকার’ আঁখি গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাঞ্চল্যকর বেলাল উদ্দিন জিহাদ (২২) হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও নিহতের স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি (৩২) কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫। ১৬ মার্চ ২০২৬ বিকালে র‌্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উখিয়া থানাধীন কোটবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেলাল উদ্দিন জিহাদের গলাকাটা ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বেলাল রাজারকুল ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন টমটম চালক ছিলেন।
ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান আসামি তাহেরা বেগম আঁখি আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে রামু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র‌্যাব-১৫ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়ার কোটবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আঁখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টিকটকার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত তাহেরা বেগম আঁখি (৩২) উখিয়া উপজেলার খুলিয়াপালং ইউনিয়নের দরিয়ার দিঘী এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মোহাম্মদ মুসা।
র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব-১৫ এর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইচেষ্টা, আটক ২

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইচেষ্টা, আটক ২
শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের সময় দুই ভুয়া সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাদের আরও চার সহযোগী পালিয়ে যায়।

 

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পীচমোড় চিংড়িখালী ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক দুইজন হলেন- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে রিজভী সালমান রহমান (২৯) এবং একই উপজেলার গাবতলাপাড়া গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে আহাদ আলী (৩৫)।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিবি পুলিশের পোশাক পরে কয়েকজন ব্যক্তি ওই এলাকায় এক নারীর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সন্দেহভাজনদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে দুই জনকে আটক করতে সক্ষম হন স্থানীয়রা। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে উত্তেজিত জনতা আটক দুই জনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

 

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ জানান, ঘটনার সময় তিনি চুয়াডাঙ্গায় একটি সভায় ছিলেন। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে থানা-পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। আটক দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেথায় আছেন তা নিয়ে জল্পনার মধ্যে এক বিবৃতিতে এমন হুমকি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুউশনারি গার্ড কোর।

‘বেঁচে থাকলে খুঁজে বের করে মারব’: নেতানিয়াহুকে ইরানের হুমকি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৫:১২ পূর্বাহ্ণ
‘বেঁচে থাকলে খুঁজে বের করে মারব’: নেতানিয়াহুকে ইরানের হুমকি
শেয়ার করুন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেথায় আছেন তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই তাকে মারার হুমকি দিল ইরান।

 

ইরানের রেভল্যুউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, “যদি ওই শিশু-হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকে, তা হলে তাকে খুঁজে বের করে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে মারব।”

 

সংঘাতের ষোড়শতম দিন রোববার ইসরায়েলের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে দেখা না যাওয়ায় তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

 

নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন নিয়ে যুদ্ধে নামে দুই দেশের সংবাদমাধ্যম। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের হামলায় নেতানিয়াহু মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন।

 

তবে ওই খবর নাকচ করে ইসরায়েলের জেরুজালেম পোস্ট জানায়, নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার ‘গুজব ছড়াচ্ছে; ইরানি গণমাধ্যম।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা সৃষ্টি হয়। তার মাঝেই ইসরায়েলের দপ্তর জানায় নেতানিয়াহু সুস্থ রয়েছেন। এবার ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল।

 

গত ১২ মার্চে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের একটি ভিডিও নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র।

 

তার পর প্রথমবার নেতানিয়াহুর সাংবাদিক বৈঠকের ভিডিও প্রকাশ করে তাঁর দপ্তর। সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথম বার প্রকাশ্যে দেখা যায় তাকে।

 

ভিডিও দেখে কারও মনে হয়, নেতানিয়াহুর একটি হাতে ছয়টি আঙুল রয়েছে। তারপরই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি ওই ভিডিও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে?

 

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সুস্থতা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ক্যানডেস আওয়েনস সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, নেতানিয়াহু কোথায়? কেন তার প্তর ভুয়া ভিডিও প্রকাশ করছে। কেন হোয়াইট হাউজে এত আতঙ্ক?

 

এরপরই তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে আনাদোলু এজেন্সি-কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “নেতানিয়াহু সুরক্ষিত রয়েছেন। সুস্থ রয়েছেন।”