হত্যা মামলার আসামি এমপির সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ
রাজশাহীর মোহনপুরে জামায়াত কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সেলফি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রাসেল শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী বিমানবন্দরে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশে রওনা।’
গত ৭ মার্চ শনিবার রাতে মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মো. আলাউদ্দিন নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হন। রাইসুল ইসলাম ওই মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি। নিহত আলাউদ্দিন উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।
ঈদের নামাজে ইমামতি করা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আসামি করা হয়েছে রাইসুল ইসলামকে।
অভিযোগে বলা হয়, সংঘর্ষের সময় আলাউদ্দিনের বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় থানায় আরও দুইটি মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফেরার সময় বিমানবন্দরে এমপি শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে সেলফি তোলেন রাইসুল ইসলাম। পরে গাড়িবহরের সঙ্গে তিনি মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে কেশরহাটে একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। কেশরহাট পৌর বিএনপির আয়োজিত ওই ইফতার মাহফিলে হত্যা মামলার অন্য আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন জানা গেছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, হত্যা মামলার আসামিরা জামিন না নিয়েই প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় তারা বিস্মিত। কেশরহাট পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি এয়ারপোর্ট থেকে মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে ইফতার মাহফিলে গেলেন, আর পুলিশ নাকি তাকে খুঁজে পাচ্ছে না- বিষয়টি আমাদের কাছে বিস্ময়কর। এতে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে রাইসুল ইসলাম বলেন, মামলায় এখনো তার জামিন হয়নি, তবে হাইকোর্ট থেকে জামিন হয়ে যাবে। জামিন না নিয়েই প্রকাশ্যে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা এবং ছবি পোস্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে ফোন কেটে দেন এবং পরে ফেসবুক থেকে ছবিটি সরিয়ে ফেলেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, বিমানবন্দরে অনেক নেতাকর্মী ছিলেন। কে তার সঙ্গে সেলফি তুলেছেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন মারা গেছেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দাবি করে তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলাটা সঠিক না। আগে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসুক। তারপর জানা যাবে তিনি কিভাবে মারা গেছেন।
এসব বিষয়ে মোহনপুর থানার ওসির দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক মোদাশ্বের হোসেন খান জানান, আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র তাদের কাছে নেই। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামিরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি জানান, বিমানবন্দর মোহনপুর থানার আওতার মধ্যে নয়। আর ইফতার মাহফিলে তারা উপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।

আপনার মতামত লিখুন