খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিদেশি কূটনৈতিকদের মুখে প্রধান বিচারপতির রোডম্যাপের প্রশংসা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
বিদেশি কূটনৈতিকদের মুখে প্রধান বিচারপতির রোডম্যাপের প্রশংসা
শেয়ার করুন

স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ঘোষিত সংস্কার রোডম্যাপের প্রশংসা করে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও বিদেশি কূটনৈতিকরা।প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগ সংস্কার রোডম্যাপের সফল বাস্তবায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার আন্তরিক আগ্রহ ও অব্যাহত সহায়তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।

বুধবার (১৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শীর্ষক সেমিনারে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর কূটনৈতিকরা অংশগ্রহণ করে প্রধান বিচারপতির ঘোষিত রোডম্যাপের প্রশংসা করেছেন।

প্রধান বিচারপতি ঘোষিত বিচার সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত ৭টি বিভাগীয় শহরসহ ৯টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপি যৌথভাবে এসব সেমিনারের আয়োজন করে।

এসব সেমিনারে প্রধান বিচারপতির সংস্কার রোডম্যাপে সংহতি জানিয়ে যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনাররা অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে, গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সুইডেনের অ্যাম্বাসেডর নিকোলাস উইকস, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সুইডিশ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রধান মারিয়া স্ট্রিডসম্যান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাইকেল মিলার, গত ৫ এপ্রিল রংপুরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং ১২ এপ্রিল খুলনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে সুইডেনের অ্যাম্বাসেডর নিকোলাস উইকস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাইকেল মিলার অংশগ্রহণ করেন। বিভাগীয় পর্যায়ের সব সেমিনারেই ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার, ইউএনডিপির রোমানা শোয়েইগার উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারগুলোতে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও বিদেশ কূটনৈতিকরা প্রধান বিচারপতির ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের বিচার বিভাগের আধুনিকায়নে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে, গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অফিস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে খুলনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে যুক্ত করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিশেষ করে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া ইউএনডিপি তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গত ৬ এপ্রিল রংপুর ও খুলনায় অনুষ্ঠিত সেমিনার সংক্রান্ত দুটি প্রামাণ্য চিত্র প্রকাশ করে। ডকুমেন্টারি দুটিতে সুইডেনের অ্যাম্বাসেডর নিকোলাস উইকস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার প্রধান বিচারপতির সংস্কার রোডম্যাপের প্রশংসা করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন এবং উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে প্রধান বিচারপতির সংস্কার রোডম্যাপ বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগ সংস্কার রোডম্যাপের সফল বাস্তবায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার আন্তরিক আগ্রহ ও অব্যাহত সহায়তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ফলাফলভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন, যাতে বিচার বিভাগের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তব রূপ লাভ করতে পারে।

প্রধান বিচারপতি বিশ্বাস করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য, সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা সম্ভব হবে।

হাতির পায়ে পিষ্ট মা-মেয়ে, দৌড়ে বাঁচলেন বাবা-ছেলে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
হাতির পায়ে পিষ্ট মা-মেয়ে, দৌড়ে বাঁচলেন বাবা-ছেলে
শেয়ার করুন

ভোরে বাড়ির আশপাশে হঠাৎ বিকট শব্দ। আতঙ্কে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন মো. একরাম মিয়া ও আছমা বিবি। দেখলেন, তিনটি হাতি আশপাশে চালাচ্ছে ভাঙচুর। এরপর এগিয়ে আসতে থাকে একরাম ও আছমার দিকে। ছয় বছরের ছেলে রেহানকে নিয়ে দৌড়ে পালালেন একরাম। তবে হাতির পায়ে পিষ্ট হলেন তার স্ত্রী আছমা ও তিন বছরের মেয়ে ছেমন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায়। আক্রান্ত দম্পতি রোহিঙ্গা। পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায় বন বিভাগের জমিতে ঘর তুলে থাকছিলেন তারা।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল নিশ্চিত করেছেন এসব তথ্য।

স্থানীয় বেলাল উদ্দিন জানালেন, ভোরের দিকে তিনটি বুনো হাতি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। সৈয়দ কলোনির কয়েকটি ঘরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলে হাতিগুলো। ঘর থেকে বের হয়েই সেগুলোর সামনে পড়ায় প্রাণ হারান আছমা ও তার শিশুকন্যা।

তার ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই খাবারের সন্ধানে বুনো হাতির পাল খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ‘পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সবাই অনিরাপদ।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বললেন, ‘হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।’

বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় আবদুল মাজেদের।

বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিচ্ছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন।

মা-মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ। আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর।

ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত
শেয়ার করুন

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই এখন নজর সবার বুথফেরত জরিপে। আর সেই জরিপেই সবচেয়ে বড় চমক হয়ে উঠেছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়। রাজনীতিতে প্রথমবার অংশ নিয়েই সম্ভাব্য বড় সাফল্যের আভাস দিচ্ছেন তিনি। ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়। বলা যায়, প্রথম নির্বাচনেই করলেন বাজিমাত।

 

নিজের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ নিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশ নেন বিজয়। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। তবে নির্বাচনের আগেই বিজয়ের জনসভায় বিপুল সমর্থক উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

 

বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপ বলছে, প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়েই বিজয়ের দল পেতে পারে প্রায় ৯৮ থেকে ১২০টি আসন। তার মার্কায় রীতিমতো ভোটের বন্যা বয়ে গেছে। এই পূর্বাভাস বাস্তব হলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

তবে সব জরিপ একরকম নয়। কিছু সংস্থার মতে, ডিএমকে জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে ৬০ থেকে ৮০টি আসন। আবার কিছু জরিপে বিজয়ের দলকে তুলনামূলক কম আসনও দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর মধ্যেই কামাখ্যা অ্যানালিটিক্সের মতো কিছু জরিপ বিজয়কে ‘কিংমেকার’ হিসেবেও দেখছে। তাদের মতে, ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পেলেও সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তার দল।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২ শতাংশের বেশি যা রাজ্যের রাজনৈতিক আগ্রহেরই প্রমাণ।

 

এখন দেখার বিষয়, বুথফেরত জরিপের এই আভাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং সত্যিই কি প্রথম নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে পারেন থালাপতি বিজয়।

রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু
শেয়ার করুন

রামুতে বন্য হাতির তাণ্ডবে একই পরিবারের মা ও মেয়েসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার আব্দুল করিমের কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসী জানায়, বণ্য হাতির একটি দল ভোর বেলায় আব্দুল করিম কলোনীতে হানা দেয়। এ সময় হাতি দলটির আক্রমনে মা মেয়ের মৃত্যু হয়। এখনও নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।