খুঁজুন
, ,

বেনামি ঋণ পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বেনামি ঋণ পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা
শেয়ার করুন

ব্যাংক খাতে সাতটি বড় শিল্প গ্রুপের কমপক্ষে পৌনে ২ লাখ কোটি টাকার বেনামি ঋণের সন্ধান মিলেছে। ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন করা প্রতিষ্ঠান বা একেবারেই অস্তিত্বহীন কোম্পানির নামে এসব ঋণ নেওয়া হয়েছে। ঋণের একটি অংশ নেওয়া হয়েছে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে আমদানির নামে। ঋণ নিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রুপগুলোকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে। ঋণের বড় অংশই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সেগুলো এখন আদায় না হওয়ায় খেলাপি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেনামি ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে। এর পরেই রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের নাম। এ প্রক্রিয়ায় আরও রয়েছে নাবিল গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, আরামিট গ্রুপ ও সিকদার গ্রুপ। আরও একটি গ্রুপের নামে আমদানির আড়ালে বেনামি ঋণের সন্ধান মিলেছে। সেগুলোর বিষয়ে বিশদ তদন্ত হচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে লুটপাটের বিষয়ে চলমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) বিশেষ তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত কার্যক্রম যতই এগোচ্ছে, ততই লুটপাটের নতুন নতুন তথ্য যেমন বের হচ্ছে, তেমনই বের হচ্ছে বেনামি ঋণের তথ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএফআইইউ ঋণের নথিপত্র, লেনদেনের ধরন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেনামি ঋণের মূল সুবিধাভোগী কারা, সেগুলো বের করছে। এর ভিত্তিতে বেনামি ঋণ সংশ্লিষ্টদের নামে দেখানোর নির্দেশ দিচ্ছে। ভুয়া বা অস্তিত্বহীন কোম্পানির নামে নেওয়া কোনো ঋণকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএফআইইউ বেনামি হিসাবে রাখছে না। সেগুলোর সুবিধাভোগীদের বের করে ঋণের দায় তাদের নামে দেখানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে। কয়েকটি গ্রুপ বেশকিছু বেনামি ঋণের দায় স্বীকার করে নিয়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো, নাবিলসহ আরও দুটি গ্রুপের নাম রয়েছে।

Advertisement

সবচেয়ে বেশি বেনামি ঋণ নিয়েছে সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বলে পরিচিত এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম মাসুদ। তার বেনামি ঋণ ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ বেনামি ঋণ নিয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপ বেনামে ঋণ নিয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদার বেনামে ঋণ নিয়েছেন দেড় হাজার কোটি টাকা। সিকাদার গ্রুপের বেনামি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। নাবিল গ্রুপের নামে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা বেনামি ঋণ রয়েছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বলে পরিচিত আরও একটি গ্রুপের বেনামি ঋণের ৬০০ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত হচ্ছে।

২০০২ সাল থেকে দেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন কার্যকর করা হয়েছে। এর আওতায় প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব খুলতে গেলে গ্রাহকের পরিচিতি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহকের পরিচিতি নিশ্চিত হলে বেনামি হিসাব খোলার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও ব্যাংকগুলোয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায় বেনামি হিসাব খুলে গ্রাহকদের আমানতের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারাই।

এখন পর্যন্ত তদন্তের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকাই নিয়েছে বেনামে। সরাসরি ঋণ ৯৮ হাজার কোটি টাকা এবং পরোক্ষ ঋণ বা বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং উপকরণের (এলসি, ব্যাংক গ্যারান্টি, আগাম চেক প্রদান, রপ্তানি বিল বিক্রি ইত্যাদি) মাধ্যমে নিয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকিং উপকরণের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করায় সেগুলো এখন পরোক্ষ ঋণে পরিণত হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। যেগুলো পাচার করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রুপের মোট ঋণের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪৬ শতাংশই নেওয়া হয়েছে বেনামে।

ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে বা অন্যের নামে কোম্পানি খুলে এসব ঋণ নেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আগে ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। পরে ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে বৈধতার আবরণ দিতে। এমন সব প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের মূল সুবিধাভোগী ছিল এস আলম গ্রুপ। যে কারণে ওইসব ঋণ এই গ্রুপের নামে দেখানো হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত তদন্তে বেক্সিমকো গ্রুপের নামে-বেনামে ১৮৮টি কোম্পানির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৭৮টি কোম্পানিকে ব্যবহার করেছে। গ্রুপটির নামে মোট ঋণ কত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত গ্রুপের নামে খেলাপি ঋণের পরিমাণই ৫৩ হাজার কোটি টাকা। মোট ঋণ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে। এর মধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা বেনামি ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে গ্রুপের মোট ঋণের ৩৭ শতাংশই বেনামে নেওয়া হয়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপ শুধু নিজস্ব কোম্পানির নামেই ঋণ নিত না। অন্য গ্রুপের কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে তার মূল সুবিধাভোগী ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ। এমন নজিরও অনেক পাওয়া গেছে, ঋণের টাকা তোলার আগে হিসাব খোলা হয়েছে। আবার ঋণের টাকা নগদে তোলার পর হিসাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে গ্রুপটি জালিয়াতি করেছে। এ ধরনের বেশকিছু জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর কিছু বেনামি ঋণের দায় গ্রুপটি চিঠি দিয়ে স্বীকার করে নিয়েছে।

নাবিল গ্রুপের নামে মোট ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে ভুয়া বা বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ রয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। মোট ঋণের ৭০ দশমিক ৩৭ শতাংশই নেওয়া হয়েছে বেনামে। নাবিল গ্রুপ এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক থেকেই ঋণের সিংহভাগ নিয়েছে।

এখন পর্যন্ত তদন্তে নাসা গ্রুপের দেড় হাজার কোটি টাকা বেনামি ঋণের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশির ভাগই নেওয়া হয়েছে ভুয়া কোম্পানির নামে। তবে এসব ঋণের মূল সুবিধাভোগী নাসা গ্রুপ। যে কারণে বেনামি ঋণগুলো নাসা গ্রুপের নামে দেখানো হচ্ছে।

আরামিট গ্রুপের বেনামি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার কেটি টাকার বেশি। এসব ঋণের বড় অংশই নেওয়া হয়েছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী পরিবারের মালিকানাধীন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে। যে ব্যক্তি বা কোম্পানির নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তারা এসব ঋণের বেশির ভাগ সুবিধাই ভোগ করেননি। সুবিধা ভোগ করেছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী। যে কারণে এসব ঋণকে সাইফুজ্জামানের ঋণ হিসাবে দেখানোর পদক্ষেপ নিয়েছে ব্যাংকটি। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ইউসিবির পর্ষদ বাতিল করে নতুন পর্ষদ গঠন করে দেওয়া হয়েছে।

সিকদার গ্রুপের এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বেনামি ঋণের তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঋণের বড় অংশই নেওয়া হয়েছে তাদেরই মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পর্ষদ বাতিল করে নতুন পর্ষদ গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সিকদার গ্রুপের নামে বেনামি ঋণের একটি বড় অংশ গেছে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ-সদস্য আসলামুল হকের মালিকানাধীন মাইশা গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির নামে। ওই কোম্পানির নামে ঋণ নেওয়া হলেও এর মূল সুবিধাভোগী ছিল সিকদার গ্রুপ। আরও বিভিন্ন গ্রুপ ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকগুলোয় বেনামি ঋণ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে এসব তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।