খুঁজুন
, ,

টার্গেট এখন বিএনপি মাইনাস

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:২৭ অপরাহ্ণ
টার্গেট এখন বিএনপি মাইনাস
শেয়ার করুন

টার্গেট এখন বিএনপি মাইনাস মন্‌জুরুল ইসলাম
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র বীজ বপন করা হয়েছিল। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ নামে সেই বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয়।

দুই নেত্রী এবং দুই দলকে মাইনাস করার সে উদ্যোগ তখন বেগম খালেদা জিয়ার বিচক্ষণতার কারণে ভেস্তে গেছে। এর প্রায়শ্চিত্ত বেগম জিয়াকে ভোগ করতে হয়েছে।
প্রায় ১৮ বছর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ভোগ করতে হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। আর কুশীলবদের সঙ্গে আপস করে ১৬ বছর টানা ক্ষমতা ভোগ করেন শেখ হাসিনা।
তার পরেও শেষরক্ষা হলো না। মাইনাস ফর্মুলার অংশ হিসেবে তাকে দেশ ছাড়তে হলো।
তার দল আওয়ামী লীগের হলো করুণ অবস্থা। এখন বাকি আছে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি। জাতীয়তাবাদের এ শক্তিকে মাইনাস করার প্রক্রিয়া এখন নতুন আদলে শুরু হয়েছে। সে প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই অগ্রসর হচ্ছে। ডাকসু ও জাকুস নির্বাচন সে প্রক্রিয়ারই উপসর্গমাত্র। তবে দুই নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির বিজয়ী হয়ে বরং বিএনপির উপকারই করেছে। সে কারণে শিবিরকে বিএনপির ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। কারণ এ দুই নির্বাচন হলো বিএনপির জন্য সেই মাইনাস প্রক্রিয়ার লাল সতর্ক সংকেত। ডাক্তার যদি বুঝতে পারেন রোগীর অসুখটা কী, তাহলে তার জন্য চিকিৎসা করে রোগী সুস্থ করার কাজটি সহজ হয়। রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে, ডাক্তারেরও সুখ্যাতি বাড়ে। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের পর বিএনপি যদি বুঝতে পারে রোগটা কী, কোন অঙ্গে ব্যথা, তাহলে রোগ নির্মূল সহজ হবে। আর যদি বিএনপির নেতা-কর্মীরা ‘কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেঁধেছি কুলো’ নীতিতে চলতে থাকেন, তাহলে মাইনাস হওয়ার জন্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

নিজে ক্ষমতার লোভ করে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র জালে আটকা পড়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। অনেকটা নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গের মতো। সে কারণেই ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নানাভাবে ও নানা ধাপে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। দুর্বার আন্দোলনের ফসল হিসেবে আহ্বান করা হয়েছিল অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক একটি ব্যবস্থা। ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের নেতৃত্বে সিভিল মিলিটারি মিশেলে একটি সরকার গঠন করা হয়েছিল। সামনে সিভিল কিছু লোক রেখে মূলত সেটি ছিল মিলিটারি নিয়ন্ত্রিত সরকার। বাংলাদেশে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, এ ইস্যুতে আন্দোলনের ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার ফসল হিসেবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করা হয়; যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেদিন কী হয়েছিল তা তুলে ধরে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ তার ‘শান্তির স্বপ্নে : সময়ের স্মৃতিচারণ’ নামক বইয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি, নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আলটিমেটাম এবং বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের অবস্থান, বিশেষ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালাম। জাতিসংঘ মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হলে যে বিপর্যয় ঘটতে পারে তা সবিস্তার বর্ণনা করলাম। নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রেসিডেন্টকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সচেষ্ট হলেন। সামরিক কর্মকর্তারা তখন জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে তাদের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, যা তখনকার পরিস্থিতিতে উপেক্ষা করা প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমেদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট। ’

ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ভিতরে নানা ঘটনা ঘটতে থাকে। দুই মাসের মধ্যে ২ শতাধিক রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। হঠাৎই ক্যান্টনমেন্টের বাসা থাকে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে সারা দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে র‌্যাবের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট পরিয়ে ঢাকার একটি আদালতে তোলা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি তার ওপর নির্যাতনের বিবরণে বলেছিলেন, রিমান্ডের সময় তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। তাকে বেঁধে রুমের ছাদের সঙ্গে ঝুলিয়ে আবার ফেলে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল খালেদা জিয়ার ওপর চাপপ্রয়োগের জন্য। তিনি যেন দুই পুত্র নিয়ে বিদেশে চলে যান। কিন্তু কোনো চাপেই তিনি নতি স্বীকার করেননি। একপর্যায়ে বিএনপি নেত্রী, সদ্যবিদায়ি প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় দুর্নীতির মামলা। পরে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় শেখ হাসিনাকে। শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার মূলত ছিল দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে বিভাজন তৈরির চেষ্টা। কুশীলবরা ভেবেছিলেন শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারে হয়তো খালেদা জিয়া খুশি হবেন। কারণ শেখ হাসিনার কারণেই ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টি হয়েছিল। বিভাজনটা তৈরি করা সম্ভব হলেই দুজনকে মাইনাস করার পথটাও সহজ হবে। কিন্তু না, বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝতে ভুল করেন ওয়ান-ইলেভেনের কারিগররা। শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার ও আদালতে তাকে নাজেহাল করার তীব্র প্রতিবাদ জানান বেগম খালেদা জিয়া। ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই বেগম জিয়া একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে আমাদের সরকার ও দলের সমালোচনার গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের পরিবার এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধেও নানারকম অযৌক্তিক, অরাজনৈতিক ও অসৌজন্যমূলক উক্তি করেছেন। তাতে আমি যেমন কষ্ট পেয়েছি ঠিক একই রকম দুঃখবোধ করছি তাঁকে অনাকাক্সিক্ষত আচরণের শিকার হতে দেখে। মানুষ হিসেবে আমরা কেউ ভুলভ্রান্তি ও ত্রুটিবিচ্যুতির ঊর্ধ্বে নই। ’ বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার না করে কিংবা তার জামিনের আবেদনে সরকারপক্ষ বিরোধিতা না করে অর্থাৎ তাকে জেলে না পাঠিয়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই ভালো হতো বলে আমার ধারণা। এখনো তাকে মুক্ত রেখে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পরিচালনার কোনো আইনসংগত সুযোগ থাকলে তাকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ’

এ বিবৃতির পর সেনাসমর্থিত সরকারের কুশীলবরা বুঝতে পারেন, ‘মাইনাস টু’ একসঙ্গে করা সম্ভব হবে না। তখন তারা ভিন্নপথের আশ্রয় নিয়েছিলেন। আতঙ্ক তৈরি করার জন্য বিপুলসংখ্যক রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তারা খালেদা জিয়ার ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। তিনি যেন দুই পুত্রকে নিয়ে বিদেশে চলে যান। চাপ সৃষ্টি করা হয় সামরিক গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে। তিনি বিদেশে চলে গেলেই মাইনাস ফর্মুলা বাস্তবায়ন সহজ হতো। কিন্তু তিনি তা করলেন না। কোনো অবস্থাতেই খালেদা জিয়া শুধু নিজেকে ও নিজের পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে সে পথ বেছে নেননি। তিনি নিজের ও পরিবারের চেয়ে দেশ এবং দেশের মানুষকে ঊর্ধ্বে রেখেছিলেন। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ বছর’ বইতে লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের পর গুঞ্জন হচ্ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত তার দুই পুত্রকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবেন। ’ কিন্তু কোনোভাবেই খালেদা জিয়াকে নির্বাসিত করতে না পেরে কুশীলবরা আরও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেন। অবশেষে তারা সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে কোকোসহ খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর শুরু হয় অন্য ষড়যন্ত্র। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কুশীলবরা, বিশেষ করে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা শেখ হাসিনার সঙ্গে নতুন আঁতাত করে তাকে ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি দেন। মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর তিনি লন্ডন হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ফিরে আসেন ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই দিন তিনি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সব কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথাও জানান। তার এ বক্তব্যের পর রাজনীতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। এদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি করাতে পারছিল না সরকার। নির্বাচন ও অন্য কোনো রাজনৈতিক আলোচনায় বেগম খালেদা জিয়া সম্মত হননি। কারণ তিনি জানতেন, যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা হবে একটি পাতানো নির্বাচন। সে নির্বাচনে বিএনপিকে ৩০ আসন দেওয়ার নীলনকশা করা হয়েছে। তাকে চাপে রাখতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় সাব-জেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়াকে রাজি করানো। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইতে লিখেছেন, ‘সেনা কর্মকর্তারা শুধু আলোচনার ওপর নির্ভর করেননি। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে “জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট” এবং “জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট” মামলার প্রস্তুতিও গ্রহণ করেন। বেগম জিয়া আমাকে বললেন যে সেনা অফিসাররা এসে নানা কথা বলছেন ও নানা শর্ত দেখাচ্ছেন। ’ কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় তিনি যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু দুই পুত্রকে কারাগারে রেখে কোনো অবস্থাতেই তিনি কোনো আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হননি। শুধু দুই পুত্রের মুক্তি নয়, তাদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও খালেদা জিয়া অনড় ছিলেন। অবশেষে সামরিক গোয়েন্দাদের চাপে এবং দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার ও শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধে তিনি আলোচনায় রাজি হন।

তবে ওয়ান-ইলেভেনের প্রক্রিয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা খুব তৎপর ছিলেন। ২০০৮ সালে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন জেমস এফ মরিয়ার্টি। সে সময় ঢাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি ওয়াশিংটনে বিভিন্ন তথ্য পাঠিয়েছেন। পরে সেসব বার্তা উইকিলিকস সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট মরিয়ার্টির পাঠানো এক বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র তারেক রহমানের কারামুক্তি নিয়ে যে দরকষাকষি চলছে, সেটি কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্ক হচ্ছে। খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সূত্র এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকর্তা-উভয় পক্ষ আমাদের বলেছেন, একটি সমঝোতা খুব নিকটবর্তী। তবে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা হচ্ছে না। ’ তারেক রহমানকে নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি মরিয়ার্র্টির কাছে স্বীকার করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান এবং গোলাম কাদের। ৩ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে পাঠানো এক বার্তায় মরিয়ার্টি উল্লেখ করেছিলেন, ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার এ টি এম আমিন। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং আলী আহসান মুজাহিদের বৈঠকের বিষয়টি মওদুদ আহমদও তাঁর বইয়ে লিখেছেন। আলোচনা ও দরকষাকষির একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার শর্তে রাজি হয় সরকার। ১৮ মাস কারাজীবন শেষে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। আর ওইদিনই কারাগার থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। সে সময় মাইনাস টু ফর্মুলার লক্ষ্য অর্জন ব্যর্থ হলেও টার্গেটে ছিল বিএনপি।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন ছিল রাজনৈতিক ও সামরিক বিপ্লব। ব্যর্থ বিপ্লবীদের সঙ্গে আপস করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকেন শেখ হাসিনা। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে মাইনাস ফর্মুলা থেকে রক্ষা পাননি। জনরোষে তিনি নিজেকে নিজেই মাইনাস করেছেন। সেই সঙ্গে মাইনাস হয়েছে তার দল আওয়ামী লীগ। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে শুধু ছাত্র-জনতা মাঠে নামার পরই শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। বিপ্লবের নাটাই ছিল অন্যদের হাতে। দেশিবিদেশি কুশীলবদের হাতে আছে এখন আরেকটি এজেন্ডা। সেটা হলো বিএনপিকে মাইনাস করা। ওয়ান-ইলেভেনের মতো এখনো দেশিবিদেশিরা সমানতালে তৎপর। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জেন-জি জেনারেশন। তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব। নতুন বিপ্লব ও বিএনপিকে মাইনাস করার নতুন ফর্মুলা এখন খুবই সক্রিয়। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো অল্প কম্পনে বিএনপি যদি বড় ধরনের ভূকম্পনের আগাম সতর্কবার্তা বুঝতে পারে, তাহলে সবার জন্যই মঙ্গল। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের বার্তা বিএনপি নেতা-কর্মীরা অনুধাবন করতে না পারলে বৈরী শক্তির স্রোতে বিলীন হয়ে যাবে জাতীয়তাবাদী শক্তির একমাত্র ঠিকানা।

সর্বশেষ জাতীয় আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিনোদন খেলা স্বাস্থ্য তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা চট্টগ্রাম প্রতিদিন
search
টার্গেট এখন বিএনপি মাইনাস
মন্‌জুরুল ইসলাম। সৌজন্যে: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আপডেট: ০৮:৩১, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫

sharethis sharing button
টার্গেট এখন বিএনপি মাইনাস মন্‌জুরুল ইসলাম
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র বীজ বপন করা হয়েছিল। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ নামে সেই বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয়।

দুই নেত্রী এবং দুই দলকে মাইনাস করার সে উদ্যোগ তখন বেগম খালেদা জিয়ার বিচক্ষণতার কারণে ভেস্তে গেছে। এর প্রায়শ্চিত্ত বেগম জিয়াকে ভোগ করতে হয়েছে।
প্রায় ১৮ বছর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ভোগ করতে হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। আর কুশীলবদের সঙ্গে আপস করে ১৬ বছর টানা ক্ষমতা ভোগ করেন শেখ হাসিনা।
তার পরেও শেষরক্ষা হলো না। মাইনাস ফর্মুলার অংশ হিসেবে তাকে দেশ ছাড়তে হলো।
তার দল আওয়ামী লীগের হলো করুণ অবস্থা। এখন বাকি আছে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি। জাতীয়তাবাদের এ শক্তিকে মাইনাস করার প্রক্রিয়া এখন নতুন আদলে শুরু হয়েছে। সে প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই অগ্রসর হচ্ছে। ডাকসু ও জাকুস নির্বাচন সে প্রক্রিয়ারই উপসর্গমাত্র। তবে দুই নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির বিজয়ী হয়ে বরং বিএনপির উপকারই করেছে। সে কারণে শিবিরকে বিএনপির ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। কারণ এ দুই নির্বাচন হলো বিএনপির জন্য সেই মাইনাস প্রক্রিয়ার লাল সতর্ক সংকেত। ডাক্তার যদি বুঝতে পারেন রোগীর অসুখটা কী, তাহলে তার জন্য চিকিৎসা করে রোগী সুস্থ করার কাজটি সহজ হয়। রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে, ডাক্তারেরও সুখ্যাতি বাড়ে। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের পর বিএনপি যদি বুঝতে পারে রোগটা কী, কোন অঙ্গে ব্যথা, তাহলে রোগ নির্মূল সহজ হবে। আর যদি বিএনপির নেতা-কর্মীরা ‘কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেঁধেছি কুলো’ নীতিতে চলতে থাকেন, তাহলে মাইনাস হওয়ার জন্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

নিজে ক্ষমতার লোভ করে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র জালে আটকা পড়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। অনেকটা নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গের মতো। সে কারণেই ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নানাভাবে ও নানা ধাপে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। দুর্বার আন্দোলনের ফসল হিসেবে আহ্বান করা হয়েছিল অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক একটি ব্যবস্থা। ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের নেতৃত্বে সিভিল মিলিটারি মিশেলে একটি সরকার গঠন করা হয়েছিল। সামনে সিভিল কিছু লোক রেখে মূলত সেটি ছিল মিলিটারি নিয়ন্ত্রিত সরকার। বাংলাদেশে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, এ ইস্যুতে আন্দোলনের ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার ফসল হিসেবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করা হয়; যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেদিন কী হয়েছিল তা তুলে ধরে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ তার ‘শান্তির স্বপ্নে : সময়ের স্মৃতিচারণ’ নামক বইয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি, নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আলটিমেটাম এবং বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের অবস্থান, বিশেষ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালাম। জাতিসংঘ মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হলে যে বিপর্যয় ঘটতে পারে তা সবিস্তার বর্ণনা করলাম। নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রেসিডেন্টকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সচেষ্ট হলেন। সামরিক কর্মকর্তারা তখন জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে তাদের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, যা তখনকার পরিস্থিতিতে উপেক্ষা করা প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমেদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট। ’

ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ভিতরে নানা ঘটনা ঘটতে থাকে। দুই মাসের মধ্যে ২ শতাধিক রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। হঠাৎই ক্যান্টনমেন্টের বাসা থাকে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে সারা দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে র‌্যাবের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট পরিয়ে ঢাকার একটি আদালতে তোলা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি তার ওপর নির্যাতনের বিবরণে বলেছিলেন, রিমান্ডের সময় তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। তাকে বেঁধে রুমের ছাদের সঙ্গে ঝুলিয়ে আবার ফেলে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল খালেদা জিয়ার ওপর চাপপ্রয়োগের জন্য। তিনি যেন দুই পুত্র নিয়ে বিদেশে চলে যান। কিন্তু কোনো চাপেই তিনি নতি স্বীকার করেননি। একপর্যায়ে বিএনপি নেত্রী, সদ্যবিদায়ি প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় দুর্নীতির মামলা। পরে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় শেখ হাসিনাকে। শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার মূলত ছিল দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে বিভাজন তৈরির চেষ্টা। কুশীলবরা ভেবেছিলেন শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারে হয়তো খালেদা জিয়া খুশি হবেন। কারণ শেখ হাসিনার কারণেই ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টি হয়েছিল। বিভাজনটা তৈরি করা সম্ভব হলেই দুজনকে মাইনাস করার পথটাও সহজ হবে। কিন্তু না, বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝতে ভুল করেন ওয়ান-ইলেভেনের কারিগররা। শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার ও আদালতে তাকে নাজেহাল করার তীব্র প্রতিবাদ জানান বেগম খালেদা জিয়া। ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই বেগম জিয়া একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে আমাদের সরকার ও দলের সমালোচনার গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের পরিবার এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধেও নানারকম অযৌক্তিক, অরাজনৈতিক ও অসৌজন্যমূলক উক্তি করেছেন। তাতে আমি যেমন কষ্ট পেয়েছি ঠিক একই রকম দুঃখবোধ করছি তাঁকে অনাকাক্সিক্ষত আচরণের শিকার হতে দেখে। মানুষ হিসেবে আমরা কেউ ভুলভ্রান্তি ও ত্রুটিবিচ্যুতির ঊর্ধ্বে নই। ’ বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার না করে কিংবা তার জামিনের আবেদনে সরকারপক্ষ বিরোধিতা না করে অর্থাৎ তাকে জেলে না পাঠিয়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই ভালো হতো বলে আমার ধারণা। এখনো তাকে মুক্ত রেখে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পরিচালনার কোনো আইনসংগত সুযোগ থাকলে তাকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ’

এ বিবৃতির পর সেনাসমর্থিত সরকারের কুশীলবরা বুঝতে পারেন, ‘মাইনাস টু’ একসঙ্গে করা সম্ভব হবে না। তখন তারা ভিন্নপথের আশ্রয় নিয়েছিলেন। আতঙ্ক তৈরি করার জন্য বিপুলসংখ্যক রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তারা খালেদা জিয়ার ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। তিনি যেন দুই পুত্রকে নিয়ে বিদেশে চলে যান। চাপ সৃষ্টি করা হয় সামরিক গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে। তিনি বিদেশে চলে গেলেই মাইনাস ফর্মুলা বাস্তবায়ন সহজ হতো। কিন্তু তিনি তা করলেন না। কোনো অবস্থাতেই খালেদা জিয়া শুধু নিজেকে ও নিজের পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে সে পথ বেছে নেননি। তিনি নিজের ও পরিবারের চেয়ে দেশ এবং দেশের মানুষকে ঊর্ধ্বে রেখেছিলেন। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ বছর’ বইতে লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের পর গুঞ্জন হচ্ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত তার দুই পুত্রকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবেন। ’ কিন্তু কোনোভাবেই খালেদা জিয়াকে নির্বাসিত করতে না পেরে কুশীলবরা আরও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেন। অবশেষে তারা সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে কোকোসহ খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর শুরু হয় অন্য ষড়যন্ত্র। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কুশীলবরা, বিশেষ করে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা শেখ হাসিনার সঙ্গে নতুন আঁতাত করে তাকে ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি দেন। মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর তিনি লন্ডন হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ফিরে আসেন ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই দিন তিনি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সব কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথাও জানান। তার এ বক্তব্যের পর রাজনীতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। এদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি করাতে পারছিল না সরকার। নির্বাচন ও অন্য কোনো রাজনৈতিক আলোচনায় বেগম খালেদা জিয়া সম্মত হননি। কারণ তিনি জানতেন, যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা হবে একটি পাতানো নির্বাচন। সে নির্বাচনে বিএনপিকে ৩০ আসন দেওয়ার নীলনকশা করা হয়েছে। তাকে চাপে রাখতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় সাব-জেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়াকে রাজি করানো। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইতে লিখেছেন, ‘সেনা কর্মকর্তারা শুধু আলোচনার ওপর নির্ভর করেননি। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে “জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট” এবং “জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট” মামলার প্রস্তুতিও গ্রহণ করেন। বেগম জিয়া আমাকে বললেন যে সেনা অফিসাররা এসে নানা কথা বলছেন ও নানা শর্ত দেখাচ্ছেন। ’ কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় তিনি যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু দুই পুত্রকে কারাগারে রেখে কোনো অবস্থাতেই তিনি কোনো আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হননি। শুধু দুই পুত্রের মুক্তি নয়, তাদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও খালেদা জিয়া অনড় ছিলেন। অবশেষে সামরিক গোয়েন্দাদের চাপে এবং দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার ও শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধে তিনি আলোচনায় রাজি হন।

তবে ওয়ান-ইলেভেনের প্রক্রিয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা খুব তৎপর ছিলেন। ২০০৮ সালে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন জেমস এফ মরিয়ার্টি। সে সময় ঢাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি ওয়াশিংটনে বিভিন্ন তথ্য পাঠিয়েছেন। পরে সেসব বার্তা উইকিলিকস সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট মরিয়ার্টির পাঠানো এক বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র তারেক রহমানের কারামুক্তি নিয়ে যে দরকষাকষি চলছে, সেটি কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্ক হচ্ছে। খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সূত্র এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকর্তা-উভয় পক্ষ আমাদের বলেছেন, একটি সমঝোতা খুব নিকটবর্তী। তবে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা হচ্ছে না। ’ তারেক রহমানকে নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি মরিয়ার্র্টির কাছে স্বীকার করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান এবং গোলাম কাদের। ৩ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে পাঠানো এক বার্তায় মরিয়ার্টি উল্লেখ করেছিলেন, ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার এ টি এম আমিন। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং আলী আহসান মুজাহিদের বৈঠকের বিষয়টি মওদুদ আহমদও তাঁর বইয়ে লিখেছেন। আলোচনা ও দরকষাকষির একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার শর্তে রাজি হয় সরকার। ১৮ মাস কারাজীবন শেষে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। আর ওইদিনই কারাগার থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। সে সময় মাইনাস টু ফর্মুলার লক্ষ্য অর্জন ব্যর্থ হলেও টার্গেটে ছিল বিএনপি।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন ছিল রাজনৈতিক ও সামরিক বিপ্লব। ব্যর্থ বিপ্লবীদের সঙ্গে আপস করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকেন শেখ হাসিনা। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে মাইনাস ফর্মুলা থেকে রক্ষা পাননি। জনরোষে তিনি নিজেকে নিজেই মাইনাস করেছেন। সেই সঙ্গে মাইনাস হয়েছে তার দল আওয়ামী লীগ। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে শুধু ছাত্র-জনতা মাঠে নামার পরই শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। বিপ্লবের নাটাই ছিল অন্যদের হাতে। দেশিবিদেশি কুশীলবদের হাতে আছে এখন আরেকটি এজেন্ডা। সেটা হলো বিএনপিকে মাইনাস করা। ওয়ান-ইলেভেনের মতো এখনো দেশিবিদেশিরা সমানতালে তৎপর। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জেন-জি জেনারেশন। তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব। নতুন বিপ্লব ও বিএনপিকে মাইনাস করার নতুন ফর্মুলা এখন খুবই সক্রিয়। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো অল্প কম্পনে বিএনপি যদি বড় ধরনের ভূকম্পনের আগাম সতর্কবার্তা বুঝতে পারে, তাহলে সবার জন্যই মঙ্গল। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের বার্তা বিএনপি নেতা-কর্মীরা অনুধাবন করতে না পারলে বৈরী শক্তির স্রোতে বিলীন হয়ে যাবে জাতীয়তাবাদী শক্তির একমাত্র ঠিকানা।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
manju209@yahoo.com

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।