খুঁজুন
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

দস্যু ও বৈরী প্রকৃতির চাপে জীবনসংগ্রাম

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
দস্যু ও বৈরী প্রকৃতির চাপে জীবনসংগ্রাম
শেয়ার করুন

দেশের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী। চারপাশে নীল সমুদ্র, মাঝখানে পাহাড়, লবণখেত ও ম্যানগ্রোভ বন। এখানকার প্রায় চার লাখ মানুষের জীবন যেন বৈরী প্রকৃতি, দস্যুতা ও উন্নয়নের জটিল চাপের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-ঝড়, অকাল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস আর ডাকাতের আতঙ্ক। অন্যদিকে মাতারবাড়ী বা অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে উচ্ছেদ-সব মিলিয়ে মহেশখালীর মানুষের জীবন আজ এক কঠিন সমীকরণে।

এ উপজেলার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি লবণচাষ। বছরের নির্দিষ্ট মৌসুমে হাজার হাজার শ্রমিক মাঠে নামেন লবণ উৎপাদন করতে। কিন্তু অকাল বৃষ্টি, খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বাজারমূল্যে অস্থিরতায় চাষিরা বারবার লোকসানের মুখে পড়ছেন।

কালামারছড়ার বাসিন্দা লবণচাষি আব্দুল মালেক বলেন, আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম লবণচাষ করে আসছি। আগে মৌসুম ভালো হলে সংসার মোটামুটি চলে যেত। বছরের পর বছর মাঠে ঘাম ঝরাতাম, সেই ঘামে সংসারের চাকা ঘুরত। কিন্তু এখন সবকিছুই অনিশ্চিত। হঠাৎ বৃষ্টি নামলেই মাঠ ডুবে যায়, কয়েক মাসের খাটুনি এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়। কখনো ঘূর্ণিঝড় আসে, কখনো অকাল বর্ষণে লবণ মাটি হয়ে যায়। তখন আর কোনো উপায় থাকে না, ধারদেনা করে দিন চালাতে হয়। তিনি বলেন, সরকারিভাবে লবণচাষিদের সহযোগিতার কথা শোনা যায়, নানা আশ্বাসও দেওয়া হয়; কিন্তু সেটা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে আমরা কোনো সাহায্য পাই না।

মহেশখালী ও সোনাদিয়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আরও দুটি খাতের ওপর নির্ভরশীল-মৎস্য আহরণ ও পানচাষ। প্রতিদিন ভোরে শত শত জেলে নৌকা বা ট্রলার নিয়ে জীবনবাজি রেখে সমুদ্রে নামেন। ঝড়-তুফান, ট্রলারডুবি কিংবা জলদস্যু আতঙ্ক যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। সোনাদিয়ার জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিদিন মৃত্যুভয়কে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরি। ঝড় উঠলে মনে হয় আর হয়তো তীরে ফিরতে পারব না। তবুও সংসারের দায়দায়িত্ব, সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার তাগিদ আমাদের পিছু হটতে দেয় না।

জলদস্যুদের ট্রলার আটকানো, মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতন-এসব ঘটনা এখন জেলেদের নিয়মিত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। সোনাদিয়ার জেলে সালাউদ্দিন জানান, রাতে সমুদ্রে যাওয়া মানেই আতঙ্ক। কখন দস্যু এসে সব নিয়ে যাবে বলা যায় না। জীবন ও অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। আমাদের প্রতিদিন সতর্ক থাকতে হয়।

শত শত পরিবার পানচাষের ওপর নির্ভরশীল। একসময় এই খাত তাদের আয়ের বড় উৎস ছিল। কিন্তু খরচ বেড়ে যাওয়া, রোগবালাই ও বাজারে অস্থিরতায় পানচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। মনোয়ারা বেগম বলেন, আগে পানের ফলন ভালো হতো, বাজারেও দাম মিলত। এখন সব খরচ মিটিয়ে হাতে কিছুই থাকে না, কখনো লোকসান গুনে ধারদেনা করতে হয়।

স্থানীয় সমাজকর্মী মোজাহার আলম বলেন, উপকূলের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে যেমন যুদ্ধ করছে, তেমনই দস্যু-সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই করছে। কার্যকর নজরদারি ছাড়া এই সমস্যা কমানো সম্ভব নয়। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত টহল, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের শক্তিশালী উপস্থিতি প্রয়োজন। নীতিগতভাবে স্থানীয় প্রশাসন সচেতন হলেও মাঠে তা প্রায়ই কার্যকর হয় না।

উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আকুতি : মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলছে। সরকারের বড় উন্নয়ন প্রকল্প হলেও স্থানীয় মানুষের বাস্তব জীবনে এর প্রভাব ছিল বিপরীত। প্রকল্পটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে না পারায় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কৃষক নুরুল কবির। তিনি বলেন, আমাদের চাষের জমি চলে গেছে। ক্ষতিপূরণ পেয়েও ভবিষ্যতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। আমরা চাই উন্নয়ন হোক, কিন্তু আমাদের না খাইয়ে নয়।

উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কারণে হাজারো পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে। অনেকেই পুনর্বাসনের জন্য অপেক্ষা করছে, তবু প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি তাড়াতাড়ি হওয়ায় তাদের জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠক কলিম উল্লাহ বলেন, মহেশখালী, সোনাদিয়া ও মাতারবাড়ী-এই তিনটি এলাকা শুধু কক্সবাজারের নয়, পুরো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে অনন্য জীববৈচিত্র্য, ম্যানগ্রোভ বন ও সমুদ্রসীমা। চাইলে এই অঞ্চলকে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই করা যেত। পরিবেশ রক্ষা করে, স্থানীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত রেখে এবং পর্যটন, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আধুনিকায়ন করা সম্ভব ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয়দের জীবিকা টিকিয়ে রাখা এবং একই সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া। মহেশখালী ও সোনাদিয়ার মানুষ বহুদিন ধরে লবণচাষ, মৎস্য আহরণ ও পানচাষের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই তিনটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক ঝুঁকি, বাজারের অস্থিরতা এবং চাষাবাদের বাড়তি খরচের কারণে লবণচাষি, জেলে ও পানচাষিরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেগুলো সমাধানে সরকার সচেষ্ট। তিনি আরও বলেন, জলদস্যু ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য উপকূলের মানুষের জীবনে বড় প্রতিবন্ধকতা। তারা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, বরং মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করে জীবিকাকে অনিশ্চিত করছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তিশালী নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রামুতে প্রবাসীর সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূল হোতা শাহেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
রামুতে প্রবাসীর সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূল হোতা শাহেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামুতে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাহেদ আহমদ (২৭) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে অভিনব কায়দায় এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন উল্টো খুন-খারাবির হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া এলাকায়।

​গত ৭ মে (২০২৬) রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর শাহেদ আহমদকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিনুয়ারা বেগম (২৬)।

​অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেচ্ছিপুল খন্দকারপাড়ার বাসিন্দা মিনুয়ারা বেগমের স্বামী ইব্রাহীম খলিল দীর্ঘ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযুক্ত শাহেদ আহমদ (২৭) ও তার মা মুর্শিদা বেগম (৫০) এবং ভাই আমিন সরওয়ার (২২) প্রবাসীর নিকটাত্মীয়। আত্মীয়তার সুবাদে এবং বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৪ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বমোট ১০,৫০,০০০/- (দশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা শাহেদের মা মুর্শিদা বেগমের পরামর্শে মূল অভিযুক্ত শাহেদ আহমদের নিকট পাঠান প্রবাসী ইব্রাহীম খলিল।

​পরবর্তীতে ওই টাকা স্ত্রী হিসেবে মিনুয়ারা বেগমকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও শাহেদ ও তার পরিবার “আজ দেব, কাল দেব” বলে নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে এবং অদ্যাবধি কোনো টাকা ফেরত দেয়নি।

​ভুক্তভোগী মিনুয়ারা বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ৭ মে তিনি তার দেবর রাশেদসহ লম্বরীপাাড়ায় শাহেদদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহেদ ও তার সহযোগীরা টাকা দিতে সরাসরি অস্বীকার করে। উল্টো টাকা চাইলে মারধর ও খুন-খারাবি করার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়।

​মিনুয়ারা বেগম জানান, শাহেদের হাত থেকে স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা উদ্ধারের বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনার পক্ষে বহু সাক্ষী রয়েছে বলেও তিনি জানান।

​এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহেদ আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিনুয়ারা বেগম আমার আপন বড় মামী। আমার মামা সৌদি আরব থেকে মূলত জমি কেনার উদ্দেশ্যে আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মামা যখন সেখানে আইনি জটিলতায় জেলে পড়েন, তখন তার নির্দেশেই আমি মামীকে ১ লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন আমার সৎ মামা রাশেদুল ইসলাম মামীকে জিম্মি করে আমার কাছে থাকা বাকি টাকাগুলো আত্মসাৎ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমার আপন মামার পাঠানো টাকা হাতিয়ে নিতেই সৎ মামা রাশেদুল ইসলাম মামীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় এই মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন।

​ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে এবং মূল অপরাধী শাহেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রামু থানা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান
শেয়ার করুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য একটি বিশাল আর্থিক পুরস্কার বা বাউন্টি ঘোষণা করার বিষয়ে আলোচনা করছে ইরান।

 

 

দেশটির সংসদ বা মজলিসে এই লক্ষ্যে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ’ শিরোনামে একটি নতুন বিল পাসের প্রস্তুতি চলছে, যার আওতায় মার্কিন ও ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের হত্যাকারীকে ৫ কোটি ইউরো বা প্রায় ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার আইনি বৈধতা দেওয়া হবে।

 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ওয়ার এবং যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর চালানো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই বিলটি আনা হচ্ছে।

 

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই বিলটির প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরান ওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন যে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রাখার অপরাধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পাল্টা পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা উচিত।

 

 

একই কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও ঘোষণা করেছেন যে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাতে পারবে’ এমন ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নির্ধারণের এই বিলটির ওপর খুব শীঘ্রই ইরানি পার্লামেন্টে চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

সংসদে এই সরকারি বিল আনার কয়েক দিন আগেই ইরানের জান্তা বা সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী মিডিয়া আউটলেট ‘মাসাফ’ দাবি করেছিল যে তারা ইতিমধ্যেই ‘কিল ট্রাম্প’ বা ট্রাম্পকে হত্যা করার একটি বিশেষ অভিযানের জন্য ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক তহবিল সুরক্ষিত করেছে।

 

এ ছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাধীন সাইবার যুদ্ধ পরিচালনাকারী হ্যাকিং গ্রুপ ‘হান্দালা’ একটি পৃথক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের সদস্যদের সন্ধান দেওয়ার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘নিপীড়ন ও দুর্নীতির প্রধান কারিগর’ আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। হ্যাকিং গ্রুপটি স্পষ্ট করেছে যে এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে যে কেউ ‘বাস্তব পদক্ষেপ’ নিতে পারবে, তাকেই এই অর্থ প্রদান করা হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাবিত বাউন্টি আইনটি দেশটির পূর্ববর্তী যেকোনো মৌখিক হুমকি বা ধর্মীয় ফতোয়া ও প্রচারণামূলক প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চূড়ান্তভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। গত বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বক্তৃতায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে তেহরান যদি তাকে হত্যার কোনো চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়।

 

এই বাউন্টি বা পুরস্কারের খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের একটি সংশোধিত ও আপডেট করা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে এটি তেহরানের পূর্ববর্তী অবস্থানের চেয়ে ভালো কোনো অগ্রগতি নয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, দুই পক্ষের আলোচনা বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর অবস্থানে রয়েছে এবং এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ চাপ ইরানের ওপরই বর্তায়।

 

সূত্র: এনডিটিভি

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি
শেয়ার করুন

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলির জবাবে পাল্টা গুলিবর্ষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ঘটা এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসএফ গুলি ছুড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বিজিবি। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

 

 

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেকোনো উসকানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।