খুঁজুন
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

বনবিভাগে অনিয়ম-দুর্নীতিতে পদোন্নতি, রুখে দিলো আদালত

বিশেষ প্রতিবেদক ::
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
বনবিভাগে অনিয়ম-দুর্নীতিতে পদোন্নতি, রুখে দিলো আদালত
শেয়ার করুন

বন সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বনবিভাগ বর্তমানে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে। জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও বিদ্যমান বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির নামে একটি ভয়াবহ দুর্নীতির বলয় গড়ে উঠেছে-এমন অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী বন কর্মকর্তারা।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ন্যায়সঙ্গতভাবে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হয়েও বঞ্চিত একাধিক বন কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। দায়ের করা মামলাগুলো আমলে নিয়ে আদালত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ১৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ওপর নিষেধাজ্ঞা (স্ট্রে অর্ডার) জারি করেন। যার মামলা নং, ( ১০/২৬) (৩৭৬/২৬) (২৪৭/২৫)।

আদালতের এ আদেশে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত থাকলেও, বনবিভাগে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এসব অনিয়ম ও অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পাওয়া আমীরুল হাসান, খান জুলফিকার, আব্দুল আহাদ, নাজমুল হাসান ও নাজমুল সর্দারসহ কয়েকজন অসাধু ও প্রভাবশালী বন কর্মকর্তা।

তাদের নেতৃত্বেই অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পদোন্নতি আদায়ের একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এই চক্রটি প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি পাইয়ে দিতে কাজ করছিল।

পদোন্নতি এখন যোগ্যতার নয়, টাকার অঙ্কের হিসাব

বনবিভাগের অভ্যন্তরীণ নথি ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেপুটি রেঞ্জার থেকে রেঞ্জার পদে পদোন্নতি এখন আর জ্যেষ্ঠতা বা কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করছে না। বরং কে কত দ্রুত ও কত টাকা দিতে পারছে-সেটাই হয়ে উঠেছে প্রধান বিবেচ্য।

অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু ডেপুটি রেঞ্জার ও ফরেস্টার ব্যাচভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে জনপ্রতি মোটা অংকের অর্থ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মহলকে মোটা অংকের আর্থিক কমিশন দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার আগে পদোন্নতি নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

মাঠ পর্যায়ে ফরেস্টারদের এই পদোন্নতির বিষয়ে দুইটি কল রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

প্রথম একটি কল রেকর্ডের কথোপকথনে শুনা গেছে রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেতে খরচপাতির টাকা তুলতে ব্যাচভিত্তিক কয়েকজনকে সমন্বয়কের তালিকায় রাখা হয়েছে। অসাধু ও পদোন্নতির অযোগ্যদের বেশি অর্থ আদায় ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যারা পদোন্নতি পাবেন তাদের ক্ষেত্রে শুধু মাত্র খরচের টাকা আদায় করা হচ্ছে এভাবে চক্রের সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্য আরেকটি কল রেকর্ডে শুনা যাচ্ছে, চট্রগ্রাম হাটহাজারি রেঞ্জের সাইফুল নামের ডেপুটি রেঞ্জার থেকে ৭/৮ লাখ টাকা মতো নিয়েছে। এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বলেছে। ২য় রেকর্ডে এমন মন্তব্য শুনা গেছে।

মামলার জটের মাঝেই দ্রুত পদোন্নতির হিড়িক

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা, বিভাগীয় তদন্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তাদের ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ মামলা চলমান অবস্থায় পদোন্নতি পাওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই রেঞ্জার পদে উন্নীত হওয়ার তদবির শুরু করেছিলেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই তড়িঘড়ি পদোন্নতির পেছনে রয়েছে অবৈধ অর্থ লেনদেনের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। না হলে সমতা ও জৈষ্ঠতা নীতিমালার সমস্যা সামাধানে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কিভাবে পুনরায় পদোন্নতির কার্যক্রমে সহযোগীতা করেন সংশ্লিষ্টরা এমন মন্তব্যও করেন ভুক্তভোগীরা।

বিতর্কিত পদোন্নতির কয়েকটি উদাহরণ

এই অভিযোগের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম আমীরুল হাসান। বিভিন্ন মামলায় কারাভোগ ও সাময়িক বরখাস্ত থাকা সত্ত্বেও ২০১৬ সালের গ্রেডুয়েশন তালিকায় নাম না থাকলেও তাকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে ২০১৮ সালে নিয়মিত করণ হয়ে ২০২০ সালের পদোন্নতি ভাগিয়ে নেন। পরবর্তী রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেতে তড়িঘড়ি করে উর্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পেলেন। অথচ তার পুর্বে অনেক ফরেস্টার ২০১৬ সালে নিয়মিত করণ হয়েও পদোন্নতি পাননি।

একই ধারাবাহিকতায় দুদকের মামলা চলমান থাকা অবস্থায় চিন্ময় মধুকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অপরদিকে, সুলতানুল আলম নামের আরেক কর্মকর্তা একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাভোগ করছেন বলে জানা গেছে।

এ ধরনের অনিয়ম, মামলাজট এবং পদোন্নতি বিধিমালার অসঙ্গতি নিরসনের দাবিতে একাধিক ভুক্তভোগী বন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মহলে লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না করেই পুনরায় রেঞ্জার পদে পদোন্নতির জন্য ৪১১ জনের নামে প্রত্যয়ন প্রদান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ-যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

৭০টির বেশি অভিযোগ,আদালতে একাধিক মামলা

এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা চুপ থাকেননি। প্রধান বন সংরক্ষক কার্যালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি)’তে অন্তত ৭০টির বেশি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ন্যায়বিচারের আশায় একাধিক ডেপুটি রেঞ্জার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলা নম্বর ১০/২৬, ৩৭৬/২৫ ও ৩৪৭/২৫ এখনো বিচারাধীন।
তাদের প্রশ্ন-যে পদোন্নতির বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান, সেই পদে কীভাবে আবার নতুন করে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়?

সুপারিশপত্রে ‘সব ঠিক আছে’-বাস্তবে উল্টো চিত্র

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি সুপারিশপত্রে ৪১১ জন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিধি মেনেই জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা ফৌজদারি মামলা নেই।
কিন্তু ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের দাবি, এই প্রত্যয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ বর্তমানে ৫ থেকে ৬টি মামলা সরাসরি পদোন্নতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। আদালত বিষয়ে মিথ্যাচার করা সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন তারা।

মামলা চলমান ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা

হাতে আসা মামলার নথি ও আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পদোন্নতি নীতিমালা লঙ্ঘন ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে অসাধু উপায়ে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে ছয়টির বেশি মামলা চলমান রয়েছে।

এ সংক্রান্ত প্রথম মামলাটি দায়ের করেন রতন লাল মহত। ওই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত প্রাথমিকভাবে পদোন্নতির ওপর স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) জারি করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেই আদেশ উত্তোলন (উইথড্র) করা হয়।

তবে বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। সর্বশেষ ১৫ জানুয়ারি দায়ের হওয়া আরও তিনটি পৃথক মামলায় আদালত পুনরায় ডেপুটি রেঞ্জার পদে বিতর্কিত পদোন্নতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আদালতের এ আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি কার্যক্রম বর্তমানে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

বনবিভাগের ভেতরে অসন্তোষ, ভাঙনের শঙ্কা

অবসরপ্রাপ্ত একাধিক বন কর্মকর্তা বলছেন, যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রাখলে এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোতেই পড়বে। বনবিভাগের মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি বাহিনীতে যখন পদোন্নতি নিয়ে এমন অনিয়ম হয়, তখন মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে, বাড়ে অসন্তোষ ও অবিশ্বাস। বিষয়টি পরিপূর্ণ ত্রুটি সামাধান না করে পুনরায় পদোন্নতি দিলে পুরো ডিপার্টমেন্ট নিয়ে নানামূখী বিতর্ক ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।

কর্মকর্তাদের কণ্ঠে ক্ষোভ ও নিজেদের দাবি

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডেপুটি রেঞ্জার বলেন, ২৮৯ জন ডেপুটি রেঞ্জার যাদের রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পাইয়ে দেবার কথা, তাদের না দিয়ে নিয়মবহির্ভূত ভাবে অন্যন্যদের পদোন্নতি দিতে মোটা অংকের টাকার মিশন চালাচ্ছে একটি অসাধু চক্র। সেখানে আমীরুল হাসান, আব্দুল আহাদ সহ বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। অথচ এসব সামাধানে আমাদের মামলা চলমান রয়েছে। তারা মামলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পদোন্নতি পাইয়ে দিতে কাজ করছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমন পদোন্নতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক বন কর্মকর্তা বলেন, জ্যেষ্ঠতা ও সমতা নির্ধারণ নিয়ে মামলা চলছে। এই জট নিরসন না করে পদোন্নতি দেওয়া মানে পুরো বিধিমালাকেই অগ্রাহ্য করা।

পদোন্নতি পাইয়ে দিতে মাঠ পর্যায়ে ডেপুটি রেঞ্জার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযুক্ত ও তাদের সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার করে আব্দুল আহাদ বলেছেন, যারা এসব মিথ্যাচার করতেছে তারা হয়তো সিনিয়রিটি পান নাই তাই। টাকা তুলার বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা। আর পদোন্নতি দিবে হাই অথোরিটি এইখানে আমাদের কি।

জ্যেষ্ঠতা, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন যেখানে প্রশাসনের মূল ভিত্তি, সেখানে বনবিভাগে পদোন্নতিকে ঘিরে এমন অভিযোগ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মনে করেন অনেকেই।

এদিকে এসব বিষয়ে প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসেন চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলার নিষেধাজ্ঞা বা স্ট্রে থাকলে পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ নেই,তবে মামলা চলমান থাকা কালীন পদোন্নতির বিষয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, অনেকেই পিএসসিতে অভিযোগ দিয়েছেন,সেটা আমি অবগত হয়েছি। আমি পিএসসিতে বলেছি যেহেতু অভিযোগ দিয়েছেন আপনারা যাচাই-বাছাই করেন কোন ত্রুটি পেলে আমাদের জানাবেন আমরা পরবর্তী এগুলা সংশোধন করে পাঠাব।

কর্ম কমিশন ( পিএসসি)র একাধিক কর্মকর্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কারো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পিএসসি’র চেয়ারম্যান এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো: আকতারুজ্জামান কল রিচিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ব্যস্ত বলে কল কেটে দেন।

বিশ্ব গাধা দিবস আজ, উদযাপন করতে পারেন যেভাবে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ব গাধা দিবস আজ, উদযাপন করতে পারেন যেভাবে
শেয়ার করুন

আজ ৮ মে বিশ্ব গাধা দিবস। ‘গাধা’ শব্দটি হরহামেশাই ব্যবহার হয় মানুষের ক্ষেত্রে। একটু ভুল করলে বা না বুঝলে মানুষ সাধারণত তাকে গাধার সঙ্গে তুলনা করে। আবার কেউ বেশি পরিশ্রম করলে তাদের কাজকে অনেকেই গাধার খাটুনির সঙ্গে তুলনা করে। এক কথায়, বোঝা টানা এ প্রাণীটিকে বোকাসোকা হিসেবেই মনে করে মানুষ। এ থেকেই বোঝা যায় গাধা কতটা পরিশ্রম করে। এ ছাড়া গাধা ওষুধশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল উৎপাদকও। মূলত প্রাণীটির প্রতি সচেতনতা ও ভালোবাসা তৈরির উদ্দেশ্যেই দিবসটির সূচনা করা হয়।

 

গাধা দিবস উপলক্ষে ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন বিং ডট কম বিশেষ ডুডল প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রাণিবিজ্ঞানী আর্ক রাজিক ২০১৮ সালে বিশ্ব গাধা দিবসের প্রচলন করেছিলেন। তিনি মূলত মরুভূমির প্রাণী নিয়ে কাজ করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন গাধারা মানুষের জন্য যে পরিমাণ কাজ করে, সেই পরিমাণ স্বীকৃতি পাচ্ছে না। এ জন্য তিনি একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করেন। তারপর সেখানে গাধাবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন।

 

গাধার দুটি প্রজাতি। উভয়ই আফ্রিকান বন্য গাধার উপপ্রজাতি এবং এগুলো হলো- সোমালি বন্য গাধা ও নুবিয়ান বন্য গাধা। ইতিহাস বলছে, ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে মানব সেবার কাজ করছে গাধা।

 

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গাধা রয়েছে চীনে। দেশটিতে গাধার চামড়ার নিচে থাকা এক ধরনের বিশেষ আঠা থেকে ওষুধ তৈরি করা হয়। এ ওষুধ অ্যাজমা থেকে ইনসোমনিয়ার মতো নানা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ওষুধশিল্পে গাঁধার ব্যবহারের ফলে দেশটিতে ক্রমেই কমছে প্রাণীটির সংখ্যা।

ভারতের আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, আকাশে উজ্জ্বল আলো

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
ভারতের আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, আকাশে উজ্জ্বল আলো
শেয়ার করুন

বঙ্গোপসাগরে নিজেদের আন্ত মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা শুরু করেছে ভারত। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় একটি মিসাইলের আলো দৃশ্যমান হয়েছে।

 

হঠাৎ আকাশে ভেসে ওঠা আলোর ঝলকে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম বিস্ময় ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর হঠাৎ আকাশের বুকে একটি উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়। বেশ কয়েক মিনিট ধরে উজ্জ্বল রশ্মিটি আকাশে দৃশ্যমান ছিল।

 

 

আন্ত মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালাতে ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত। এ বিষয়ে ‘নোটিশ টু এয়ারম্যান’ (নোটাম) জারি করা হয়েছে।

 

ধারণা করা হচ্ছে, ভারত এবার ‘অগ্নি-৬’ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালাচ্ছে। আন্ত মহাদেশীয় এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার।

 

কয়েকদিন আগে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) চেয়ারম্যান সমির ভি কামাথ জানান, তারা নিজেদের প্রথম আন্ত মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘অগ্নি-৬’-এর পরীক্ষা চালানোর জন্য প্রস্তুত।

বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের জন্ম, মৃত্যু হামে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের জন্ম, মৃত্যু হামে
শেয়ার করুন

বিয়ের ১১ বছর পর ফারজানা ইসলাম প্রথম সন্তানের মুখ দেখেছিলেন। ছেলে ফাইয়াজ হাসান তাজিমের নামে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম রেখেছিলেন ‘তাজিম এর আম্মু’। ৮ মাস ১৮ দিন বয়সী তাজিম হামে মারা গেছে গত ২২ এপ্রিল।

 

ফারজানা ইসলাম-হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির এই সন্তানের জন্ম হয়েছিল টেস্টটিউব বেবি বা আইভিএফ পদ্ধতিতে। এতে নারী ও পুরুষের প্রজনন কোষ সংগ্রহ করে একটি টেস্টটিউবে নিষিক্ত করা হয়। তারপর নিষিক্ত ডিম্বাণু বা ভ্রূণকে মায়ের জরায়ুতে স্থানান্তরের মাধ্যমে গর্ভধারণ নিশ্চিত করা হয়। পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল। ঝুঁকিও ছিল অনেক। সন্তানের জন্মের পর তাজিমকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন এই দম্পতি।

 

গত মার্চ মাস থেকে তাজিমকে নিয়ে লড়াই শুরু করেছিলেন ফারজানা ইসলাম। প্রথমে নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা শুরু হয়, তারপর হাম। চাঁদপুর থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করে চিকিৎসা করিয়েছেন।

 

 

গতকাল বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে কথা হয় ফারজানা ইসলামের সঙ্গে। মেসেঞ্জারে ছেলের একটি ছবি পাঠিয়ে এই মা লিখেছেন, ‘এটা ছিল আমার বাবুর জীবনের শেষ হাসির ছবি’। বললেন, নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য খরচের বাইরে ১৭ দিন শুধু হামের চিকিৎসায় বিভিন্ন হাসপাতালে খরচ হয়েছে চার লাখ টাকার বেশি।

 

ফারজানা ছেলেকে নিয়ে ভোগান্তির কথা বলছিলেন। ১৮ মার্চ নিউমোনিয়া চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড়ের প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করান। পিআইসিইউ (শিশুদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) এবং সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা শেষে ২৫ মার্চ ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। লঞ্চে বাবার কোলে ছেলে হেসেছে সে ছবিও তুলেছিলেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড়ের বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালেও ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলেন। তবে সেই সময় কয়েকটি শিশুর মৃত্যুতে ভয় পেয়ে হাসপাতাল ছেড়েছিলেন।

 

 

২৫ মার্চ বাড়ি ফেরার চার দিনের মাথায় ছেলের আবার জ্বর শুরু হয়। চিকিৎসকের চেম্বারে দেখানোর পাশাপাশি বাড়িতেই চিকিৎসা চলতে থাকে। অবস্থা খারাপ হলে ৫ এপ্রিল থেকে আবার দৌড়ানো শুরু হয় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। ওই দিন অ্যাম্বুলেন্সে করে ছেলেকে নিয়ে প্রথমে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে যান। বেড খালি না পেয়ে যান মিরপুরের আলোক হাসপাতালে। সেখানে পিআইসিইউ এবং পরে ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলতে থাকে। সেখান থেকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেও বেড না পেয়ে ভর্তি করান ধানমন্ডির সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিমিটেডে।

 

ফারজানা জানান, সুপারম্যাক্স হাসপাতালে ক্যানোলায় ছেলের পা ফুলে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। সেখানে পিআইসিইউতে ছেলের সঙ্গে মা–বাবার থাকার সুযোগ ছিল না। তাই ১৮ এপ্রিল আবার ছেলেকে ভর্তি করান প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে। সেখানেই পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলে মারা যায়।

 

একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর ফারজানা-হেলাল দম্পতি দিশাহারা হয়ে পড়েন। বিভিন্ন হাসপাতালের নথি থাকলেও তাজিমের জীবনের সর্বশেষ ছাড়পত্রের নথিটা হারিয়ে ফেলেছেন। বললেন, হাসপাতাল থেকে দেওয়া সব শেষ ছাড়পত্র বা মৃত্যুর কারণ লেখা নথিটা অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছিল, সন্তানের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামার সময় ওই নথিটার কথা কারও মনেই ছিল না।

 

সান্ত্বনা খুঁজে বেড়াচ্ছেন এই মা

ফারজানা ফেসবুকে কখনো ছেলের পায়ের ছবি বা কখনো অন্য কোনো স্মৃতির কথা লিখে চলেছেন। তাজিমের হামের জন্য প্রথম ডোজের টিকা পাওয়ার তারিখ ছিল ১ মে। তার আগেই সে মারা যায়। টিকার কার্ডটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন মা।

 

হামে মারা যাওয়া অন্য একটি শিশুকে নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করে ফারজানা লিখেছেন, তাজিমের অসুস্থতার সময় তার চোখের যে চাহনি ছিল, তা তিনি ভুলতে পারছেন না। চোখ দেখেই তো ছেলের যে কত কষ্ট হচ্ছিল, তা বুঝতে পেরেছিলেন মা।

 

ক্ষোভ প্রকাশের জায়গাও এই ফেসবুক। এক পোস্টে ফারজানা লিখেছেন, দুই মাস ধরে নিষ্পাপ শিশুরা মরে যাচ্ছে, এ নিয়ে সংসদে আলাপ নেই। কারও কোনো দায় নেই। কেউ ব্যর্থতা স্বীকার করছে না। সব দোষ মা ও শিশুর। শিশুরা এই দেশে জন্ম নিল কেন? মা সন্তানের জন্ম দিল কেন?