খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

শত কোটি টাকার প্রকল্পে ‘সামান্য টিউবওয়েল’ স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি 

এম ফেরদৌস
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
শত কোটি টাকার প্রকল্পে ‘সামান্য টিউবওয়েল’ স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি 
শেয়ার করুন

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্প–১ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন শত কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র কয়েকটি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজেই ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সামান্য এই টিউবওয়েল স্থাপনের কাজেই অনিয়ম থাকায় শত কোটি টাকার প্রকল্পের পুরো কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গুরুতর সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন।

ইজিপি টেন্ডার সুত্রে জানা গেছে, কউকের এই প্রকল্পের কাজে কোটি টাকার বাজেটে চারটি বড় ও ছয়টি ছোট টিউবওয়েল স্থাপনের কাজের মান , সাইজ, নকশা ও পানি স্তরের পরিমাপ নির্ণয়ে আধুনিক প্রযুক্তি বা গামা লোগিংয়ের মাধ্যমে বড় চারটি টিউবওয়েল স্থাপন করতে হবে। সেখানে বড় চারটি টিউবওয়েল কাজের বাজেট ধরা হয়েছে ছিয়ানব্বই লাখ চুয়াল্লিশ হাজার তিনশ পঁয়তাল্লিশ টাকা তিরানব্বই পয়সা। ( ৯৬৪৪,৩৪৫.৯৩)

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিধিমালা উপেক্ষা করে এসব টিউওবয়েলের কাজ চলমান রয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী প্রতিটি টিউবওয়েলে ২৪ ইঞ্চি বোরিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে করা হচ্ছে মাত্র ২০ ইঞ্চি। একইভাবে যেখানে ২৪ ইঞ্চি কাটার ব্যবহারের কথা, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ২০ ইঞ্চির কাটার। ফলে শুরু থেকেই প্রকল্পের কারিগরি মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

আরও গুরুতর অনিয়মের তথ্য মিলেছে কেসিং পাইপ স্থাপনে। নিয়ম অনুযায়ী ২৪ ইঞ্চি বোরিং টিকিয়ে রাখতে ২৬ ইঞ্চি কেসিং পাইপ ব্যবহারের প্রয়োজন থাকলেও সেখানে বাইরে থেকে বসানো হয়েছে মাত্র ২২ ইঞ্চির কেসিং পাইপ। এতে কার্যত ২৪ ইঞ্চি বোরিংয়ের জায়গায় সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ ইঞ্চিতে।

 

এছাড়া পানির স্তর (ওয়াটার লেয়ার বা গভীরতা) নির্ধারণ ও ভূগর্ভস্থ স্তরের সঠিক তথ্য পেতে যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে ‘গামা লগিং’ করার কথা ছিল, সেখানে সেটিও করা হয়নি। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির মান ও পরিমাপ যাচাই ছাড়াই টিউবওয়েল স্থাপন করার প্রমাণ মিলেছে।

 

টিউবওয়েল নির্মাণকাজে নিয়োজিত সাইফুল মিস্ত্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বড় চারটি টিউবওয়েলের বোরিং কাজ তিনি ও দিদার একসঙ্গে করছেন। তবে ওই স্থানে মূল ঠিকাদার হিসেবে শুক্কুর ৮০০ টাকা ফুট দরে কাজের কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। পরে শুক্কুর সেই কাজ সাইফুল মিস্ত্রিকে প্রতি ফুট ৭৯০ টাকা দরে সাব-কন্ট্রাক্ট দেন। এতে প্রতি ফুটে ১০ টাকা করে কমিশন নেন শুক্কুর নামে ঐ ব্যক্তি।

 

এই কাজের মূল ঠিকাদার কে জানতে চাইলে মিস্ত্রি চেনেন না বলে জানান। এছাড়া টিউবওয়েলে পানির স্তর নির্ণয় বা গামা লগিং করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল মিস্ত্রি বলেন, এসব কাজ তাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করা হয়নি। অন্য কেউ এ কাজ করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কথা শুনেছি ঠিকই, তবে নিজ চোখে দেখেননি তিনি।

 

দিদার নামে আরেক মিস্ত্রির একটি টিউবওয়েলের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পানির স্তর নির্ণয় বা গামা লগিংয়ের কোনো কাজ করা হয়েছে কি না জনতে চাইলে সাইফুল মিস্ত্রি বলেন,সেখানেও গামা লোগিং হয়নি বলে জানান।

 

সম্পূর্ণ হওয়া বড় একটি টিউবওয়েলের কাজ করা দিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাকে কেবল বোরিং করার কাজের কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছিল। বোরিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মানদন্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, বা পানির স্তর নির্ণয়ে গামা লোগিং করা হয়েছে কি না – জানতে চাইলে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি  কিছুই জানেন না।

 

এই প্রকল্পের মূল টিকাদার মতিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে টিউবওয়েলের বোরিং ক্যাসিং পাইপ ২৪ ইঞ্চির কথা স্বীকার করে তিনি জানান, এসব কাজ শুক্কুরের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। মিস্ত্রিদের কাজের বিষয়ে তিনি জানেন না।

 

সাইজ ও গামা লোগিংয়ের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার কাছে কোন ফ্রুফ থাকলে আমার ওয়াটসাপে দেন বিষয়টি দেখব বলে প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই পুরো কার্যক্রমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) কোনো প্রকৌশলীর কার্যকর তদারকিও চোখে পড়েনি।

 

কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজের মধ্যে আমাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই,তবে উনারা চাইলে ডিপিএইচই এর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজের মানদন্ড ও ড্রয়িং অন্যান্য বিষয়টি দেখা হয় ।

 

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পটি সরাসরি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হলেও কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে, আবার সেই সাব-ঠিকাদার কাজ করিয়েছে স্থানীয় মিস্ত্রির মাধ্যমে। ফলে একাধিক স্তরে দায় এড়িয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যথাযথ তদারকি না করে কন্ট্রাক্টরের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পন্ন করেছে। এতে শত কোটি টাকার এই প্রকল্পের অন্যান্য খাতেও অনিয়ম হয়েছে কি না- তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহ।

 

কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজ নিয়ে এমন কানাঘুষা নতুন নয়। অতীতেও একাধিক প্রকল্পে তাদের বিরুদ্ধে দায়সারা কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নতুন করে এই উন্নয়ন প্রকল্পে টিউবওয়েল স্থাপনের মতো মৌলিক কাজেই যখন এত অনিয়ম ধরা পড়ছে, তখন পুরো প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

 

এ প্রকল্পের দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সিভিল) আল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব আমি বলতে পারব না,প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বলে দায় এড়ান তিনি।

 

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প পরিচালক)  মো: আব্দুল্লাহ’র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মন্তব্য না পেয়ে সরাসরি অফিসে গেলে রিসিভশনের লেনের মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দেন এসব ব্যপারে মিডিয়ায় তিনি কথা বলবেন না।

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দিননের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালকদের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন তিনি।

 

এভাবেই একে অপরের মাধ্যমে দুর্নীতি অনিয়মের বিষয় নিয়ে দায় এড়িয়ে গেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

 

এদিকে সচেতন মহল বলছে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

৪০০০ কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, যুদ্ধের পরিসর বাড়াচ্ছে ইরান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
৪০০০ কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, যুদ্ধের পরিসর বাড়াচ্ছে ইরান
শেয়ার করুন

 

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এটির দূরত্ব ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার।

এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি নিক্ষেপ করা হয়। তবেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানেনি।

দিয়েগো গার্সিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারত মহাসাগরের ঠিক মাঝখানে ছোট্ট এক দ্বীপ ‘দিয়েগো গার্সিয়া’। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম এই দ্বীপ সাধারণ মানচিত্রে খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে সামরিক কৌশলের দিক থেকে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান।

বিবিসি বলছে, দিয়েগো গার্সিয়া মূলত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি। নিকটতম জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগ থেকে এটি প্রায় ১ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। দুর্গম অবস্থানের কারণে এখানে সাধারণ বেসামরিক মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্য ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। বিশেষ করে ব্রিটিশ স্বার্থ বা নাগরিকদের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে এবং ‘ডিফেন্সিভ অপারেশন’ বা আত্মরক্ষামূলক অভিযানের জন্য এটি ব্যবহার হচ্ছে।

গত শুক্রবার এক বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে ইরান শাসিত ‘হরমুজ প্রণালি’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য এই ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমতি পায় মার্কিন বাহিনী।

ইরান থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবরটি সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কারণ হলো, এখান থেকে মার্কিন বি-৫২ ও বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান দূরপাল্লার মিশনে উড্ডয়ন করে; এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মাঝামাঝি অবস্থানে হওয়ায় এটি পুরো ভারত মহাসাগরের নৌপথ নিয়ন্ত্রণের ‘স্নায়ুকেন্দ্র’ এবং এখান থেকেই মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ওপর সার্বক্ষণিক স্যাটেলাইট ও রাডার নজরদারি চালানো হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষিত একটি দুর্গে আঘাত। এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ এবং এখান থেকে পরিচালিত আক্রমণই হয়ত নির্ধারণ করবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথ।

যুদ্ধের পরিসর বাড়াচ্ছে ইরান

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়েগো গার্সিয়াকে নিশানা করা ইরানের সমরাস্ত্রের দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতাকে সামনে এনেছে। ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, এই হামলা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের বিপরীতে ইরানের পাল্টা জবাবের গভীরতা প্রকাশ করে।

এলিজা আল জাজিরাকে বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্র ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। আর এমনটা ঘটলে উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণ, যা যুক্তরাষ্ট্র চায় তা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, নতুন স্থাপনা, নতুন অবস্থান এখন ঝুঁকিতে পড়ছে।’

এই সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ, ইরান কোনো প্রথাগত যুদ্ধে জেতার চেষ্টা করছে না। প্রথাগত যুদ্ধে তারা পারবেও না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি শক্তিশালী। বরং ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের সমীকরণ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

এলিজা বলেন, ‘একটি দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকে হুমকির মুখে ফেলার মাধ্যমে এই সংকেত দেওয়া হচ্ছে যে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অর্থ হবে ক্রমাগত উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়া।’

কারাগারে ঈদ জামাতে সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা, রাজসাক্ষীর সঙ্গে কথা বলেননি কেউ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
কারাগারে ঈদ জামাতে সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা, রাজসাক্ষীর সঙ্গে কথা বলেননি কেউ
শেয়ার করুন

সারা দেশের কারাগারগুলোতে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে শরিক হয়েছেন হাজতি আসামি ও বন্দিরা। রাজধানীর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে ঈদের জামাতে অংশ নেন সেখানে বন্দি থাকা আওয়ামী লীগ আমলের মন্ত্রী, এমপি ও আমলারা। এ সময় তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। তবে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সবাই এড়িয়ে যান। সাবেক মন্ত্রী-এমপি-আমলাদের কেউ তার সঙ্গে কোলাকুলি করেননি।

শনিবার (২১ মার্চ) ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে সকাল সাড়ে ৮টায় কারা কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তায় একটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলায় বন্দি থাকা প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আমলাসহ অনেকে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি সেই ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করেন রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনও।

জামাত শেষে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আমলারা নিজেরা এবং অন্য বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। এ সময় রাজসাক্ষী আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে ছিলেন। তার আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ছিল। সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ তার সঙ্গে কথা বলা বা কোলাকুলি করার চেষ্টা করেননি। তাদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহও দেখা যায়নি।

কারাগারে বিশেষ খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

এদিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার (কেরানীগঞ্জ) ফারুক আহমেদ ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, কারাগারে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সকল বন্দী ও স্টাফরা অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, সকালে নির্ধারিত সময়ে বন্দিদের ঈদ উপলক্ষ্যে মুড়ি ও পায়েস পরিবেশন করা হয়। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। বন্দিরা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং পুরো নিরাপত্তার মধ্যে তাদের মতো করে আনন্দ উপভোগ করছেন। পরে তাদের ঈদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।

ঈদের দিন দুপুরে বন্দীদের যে সকল বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে সেগুলো হল- পোলাও, গরুর রেজালা (বিকল্প খাসির মাংস), সেদ্ধ ডিম, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাত, পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের ৭৩ কারাগারে বন্দি রয়েছে হাজতি-কয়েদি মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন এবং পরবর্তী আরও দুইদিন- মোট তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন স্বজনদের রান্না করে আনা খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন বন্দীরা। এছাড়া বন্দিরা মোবাইল ফোনে তিন মিনিট করে স্বজনদের সঙ্গে ফ্রি কথা বলতে পারবেন।

এমএসি/এমএন

ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত
শেয়ার করুন

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে একটি ড্রাম ব্রিজ ভেঙে ঈদে ঘুরতে যাওয়া শতাধিক মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ে গেছেন। এ ঘটনায় তিন শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষ্যে প্রতি বছর ওই ব্রিজে এবং আশপাশে মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষ আসেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আজ অতিরিক্ত চাপের কারণে হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়ে।

এ সময় ব্রিজে থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে অনেকে সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কিছু শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এখনও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।