খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

শত কোটি টাকার প্রকল্পে ‘সামান্য টিউবওয়েল’ স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি 

এম ফেরদৌস
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
শত কোটি টাকার প্রকল্পে ‘সামান্য টিউবওয়েল’ স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি 
শেয়ার করুন

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্প–১ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন শত কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র কয়েকটি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজেই ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সামান্য এই টিউবওয়েল স্থাপনের কাজেই অনিয়ম থাকায় শত কোটি টাকার প্রকল্পের পুরো কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গুরুতর সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন।

ইজিপি টেন্ডার সুত্রে জানা গেছে, কউকের এই প্রকল্পের কাজে কোটি টাকার বাজেটে চারটি বড় ও ছয়টি ছোট টিউবওয়েল স্থাপনের কাজের মান , সাইজ, নকশা ও পানি স্তরের পরিমাপ নির্ণয়ে আধুনিক প্রযুক্তি বা গামা লোগিংয়ের মাধ্যমে বড় চারটি টিউবওয়েল স্থাপন করতে হবে। সেখানে বড় চারটি টিউবওয়েল কাজের বাজেট ধরা হয়েছে ছিয়ানব্বই লাখ চুয়াল্লিশ হাজার তিনশ পঁয়তাল্লিশ টাকা তিরানব্বই পয়সা। ( ৯৬৪৪,৩৪৫.৯৩)

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিধিমালা উপেক্ষা করে এসব টিউওবয়েলের কাজ চলমান রয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী প্রতিটি টিউবওয়েলে ২৪ ইঞ্চি বোরিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে করা হচ্ছে মাত্র ২০ ইঞ্চি। একইভাবে যেখানে ২৪ ইঞ্চি কাটার ব্যবহারের কথা, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ২০ ইঞ্চির কাটার। ফলে শুরু থেকেই প্রকল্পের কারিগরি মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

আরও গুরুতর অনিয়মের তথ্য মিলেছে কেসিং পাইপ স্থাপনে। নিয়ম অনুযায়ী ২৪ ইঞ্চি বোরিং টিকিয়ে রাখতে ২৬ ইঞ্চি কেসিং পাইপ ব্যবহারের প্রয়োজন থাকলেও সেখানে বাইরে থেকে বসানো হয়েছে মাত্র ২২ ইঞ্চির কেসিং পাইপ। এতে কার্যত ২৪ ইঞ্চি বোরিংয়ের জায়গায় সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ ইঞ্চিতে।

 

এছাড়া পানির স্তর (ওয়াটার লেয়ার বা গভীরতা) নির্ধারণ ও ভূগর্ভস্থ স্তরের সঠিক তথ্য পেতে যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে ‘গামা লগিং’ করার কথা ছিল, সেখানে সেটিও করা হয়নি। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির মান ও পরিমাপ যাচাই ছাড়াই টিউবওয়েল স্থাপন করার প্রমাণ মিলেছে।

 

টিউবওয়েল নির্মাণকাজে নিয়োজিত সাইফুল মিস্ত্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বড় চারটি টিউবওয়েলের বোরিং কাজ তিনি ও দিদার একসঙ্গে করছেন। তবে ওই স্থানে মূল ঠিকাদার হিসেবে শুক্কুর ৮০০ টাকা ফুট দরে কাজের কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। পরে শুক্কুর সেই কাজ সাইফুল মিস্ত্রিকে প্রতি ফুট ৭৯০ টাকা দরে সাব-কন্ট্রাক্ট দেন। এতে প্রতি ফুটে ১০ টাকা করে কমিশন নেন শুক্কুর নামে ঐ ব্যক্তি।

 

এই কাজের মূল ঠিকাদার কে জানতে চাইলে মিস্ত্রি চেনেন না বলে জানান। এছাড়া টিউবওয়েলে পানির স্তর নির্ণয় বা গামা লগিং করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল মিস্ত্রি বলেন, এসব কাজ তাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করা হয়নি। অন্য কেউ এ কাজ করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কথা শুনেছি ঠিকই, তবে নিজ চোখে দেখেননি তিনি।

 

দিদার নামে আরেক মিস্ত্রির একটি টিউবওয়েলের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পানির স্তর নির্ণয় বা গামা লগিংয়ের কোনো কাজ করা হয়েছে কি না জনতে চাইলে সাইফুল মিস্ত্রি বলেন,সেখানেও গামা লোগিং হয়নি বলে জানান।

 

সম্পূর্ণ হওয়া বড় একটি টিউবওয়েলের কাজ করা দিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাকে কেবল বোরিং করার কাজের কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছিল। বোরিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মানদন্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, বা পানির স্তর নির্ণয়ে গামা লোগিং করা হয়েছে কি না – জানতে চাইলে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি  কিছুই জানেন না।

 

এই প্রকল্পের মূল টিকাদার মতিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে টিউবওয়েলের বোরিং ক্যাসিং পাইপ ২৪ ইঞ্চির কথা স্বীকার করে তিনি জানান, এসব কাজ শুক্কুরের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। মিস্ত্রিদের কাজের বিষয়ে তিনি জানেন না।

 

সাইজ ও গামা লোগিংয়ের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার কাছে কোন ফ্রুফ থাকলে আমার ওয়াটসাপে দেন বিষয়টি দেখব বলে প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই পুরো কার্যক্রমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) কোনো প্রকৌশলীর কার্যকর তদারকিও চোখে পড়েনি।

 

কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজের মধ্যে আমাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই,তবে উনারা চাইলে ডিপিএইচই এর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজের মানদন্ড ও ড্রয়িং অন্যান্য বিষয়টি দেখা হয় ।

 

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পটি সরাসরি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হলেও কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে, আবার সেই সাব-ঠিকাদার কাজ করিয়েছে স্থানীয় মিস্ত্রির মাধ্যমে। ফলে একাধিক স্তরে দায় এড়িয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যথাযথ তদারকি না করে কন্ট্রাক্টরের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পন্ন করেছে। এতে শত কোটি টাকার এই প্রকল্পের অন্যান্য খাতেও অনিয়ম হয়েছে কি না- তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহ।

 

কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজ নিয়ে এমন কানাঘুষা নতুন নয়। অতীতেও একাধিক প্রকল্পে তাদের বিরুদ্ধে দায়সারা কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নতুন করে এই উন্নয়ন প্রকল্পে টিউবওয়েল স্থাপনের মতো মৌলিক কাজেই যখন এত অনিয়ম ধরা পড়ছে, তখন পুরো প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

 

এ প্রকল্পের দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সিভিল) আল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব আমি বলতে পারব না,প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বলে দায় এড়ান তিনি।

 

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প পরিচালক)  মো: আব্দুল্লাহ’র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মন্তব্য না পেয়ে সরাসরি অফিসে গেলে রিসিভশনের লেনের মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দেন এসব ব্যপারে মিডিয়ায় তিনি কথা বলবেন না।

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দিননের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালকদের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন তিনি।

 

এভাবেই একে অপরের মাধ্যমে দুর্নীতি অনিয়মের বিষয় নিয়ে দায় এড়িয়ে গেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

 

এদিকে সচেতন মহল বলছে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

উখিয়ার প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ফরিদ আহম্মদ চৌধুরীর ৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
উখিয়ার প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ফরিদ আহম্মদ চৌধুরীর ৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ
শেয়ার করুন

উখিয়ার প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ফরিদ আহম্মদ চৌধুরীর ৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ।

তিনি ২০১৯ সালের ৩ মে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর ৩ দিন পর ৬ মে তাকে চৌধুরী পাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মাত্র ৬৩ বছর বয়সে মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী উখিয়ার রুমখা চৌধুরী পাড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি সৎ, বিনয়ী, বন্ধুবৎসল ও অমায়িক লোক হিসাবে সবার কাছে সমান জনপ্রিয় ছিলেন। স্বনামখ্যাত চিত্রশিল্পী ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী একজন মেধাবী সংগঠক ছিলেন।

 

তিনি উখিয়া কোটবাজার অভিলাষ খেলাঘর আসর ও উখিয়া আর্টক্লাবের প্রতিষ্ঠা সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুকালে ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী স্ত্রী, ৭ পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রেখে যান।

 

পরিবারের পক্ষে মরহুমের মেঝসন্তান সাংবাদিক রাসেল চৌধুরী মরহুম পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

মন যা চায় আজ তাই খাওয়ার দিন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
মন যা চায় আজ তাই খাওয়ার দিন
শেয়ার করুন

ডায়েটের কড়া নিয়মে হাঁপিয়ে উঠেছেন? তবে আজ একটু ছুটি নিতেই পারেন। কারণ আজ ৬ মে, ডায়েট না মেনে মন যা চায় আজ তাই খাওয়ার দিন। বছরে একদিন এই দিনটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, শরীরকে ভালোবাসাও জরুরি, শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়।

 

বর্তমান সময়ে ফিট থাকার নামে অনেকেই কঠোর খাদ্যনিয়ম মেনে চলেন। কিন্তু অতিরিক্ত কড়াকড়ি অনেক সময় শরীর ও মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই দিনটি উৎসাহ দেয় নিজের পছন্দের খাবার উপভোগ করতে এবং শরীর নিয়ে ইতিবাচক ভাবতে।

 

১৯৯২ সালে এই দিনের সূচনা করেন মেরি ইভান্স ইয়াং। তিনি নিজেই খাদ্যজনিত এক গুরুতর সমস্যায় ভুগেছিলেন। সুস্থ হয়ে ওঠার পর তিনি বুঝতে পারেন, শরীর নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মানুষকে অসুস্থ করে তোলে। সেখান থেকেই শুরু হয় এই বিশেষ দিনের যাত্রা।

 

এই দিনটি শুধু ইচ্ছামতো খাওয়ার জন্য নয়, বরং একটি জরুরি বার্তা দেয়—শরীরকে ছোট করে দেখা নয়, ভালোবাসা শিখতে হবে। অনেকেই নিজের ওজন বা গড়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। যা মানসিক চাপ তৈরি করে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থ থাকতে সুষম খাবার যেমন জরুরি, তেমনি দরকার আনন্দ নিয়ে খাওয়া। তাই বছরের এই একটি দিন মনে করিয়ে দেয়, খাবারের সঙ্গে সম্পর্কটা যেন ভয় নয়, আনন্দের হয়।

 

আজ তাই একটু ভিন্ন হোক রুটিন। প্রিয় খাবার খান, নিজেকে ভালোবাসুন, আর ভুলে যান অতিরিক্ত নিয়মের চাপ।

 

 

ব্যথা ছাড়াই হানা দিতে পারে স্ট্রোক, জীবন বাঁচাতে চিনুন এই ৫টি ‘নীরব’ লক্ষণ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ব্যথা ছাড়াই হানা দিতে পারে স্ট্রোক, জীবন বাঁচাতে চিনুন এই ৫টি ‘নীরব’ লক্ষণ
শেয়ার করুন
স্ট্রোক মানেই কি মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা বা অসহ্য ব্যথা? আমাদের এই প্রচলিত ধারণাটি জীবনঘাতী হতে পারে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোক কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই ঘটে। আর ব্যথার অনুপস্থিতির কারণেই রোগীরা লক্ষণগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা সামান্য সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান, যার ফলাফল হয় ভয়াবহ।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, ব্যথা না হওয়াটাই স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফাঁদ। অনেকেই মনে করেন ব্যথা নেই মানে বিপদ নেই, কিন্তু ব্যথাহীন স্ট্রোক দ্রুত পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

ব্যথাহীন স্ট্রোকের ৫টি প্রধান সতর্ক সংকেত:

১. হঠাৎ অবশ বা দুর্বলতা

শরীরের যেকোনো এক পাশ—বিশেষ করে মুখ, হাত বা পা হঠাৎ অবশ হয়ে আসা। হাসতে গেলে যদি মুখের এক পাশ বেঁকে যায় বা হাত উপরে তুলে ধরে রাখতে কষ্ট হয়, তবে বুঝবেন এটি স্ট্রোকের লক্ষণ।

২. কথাবার্তায় অসংলগ্নতা

হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারা কিংবা অন্যের সহজ কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।

৩. দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন

হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, একটি জিনিসকে দুটি দেখা অথবা চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসা।

৪. ভারসাম্য ও সমন্বয়হীনতা

হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে গিয়ে টাল সামলাতে না পারা বা শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।

আরও পড়ুন

শ্বাসকষ্ট না থাকলেও হতে পারে হাঁপানি, যে ৫ বিপজ্জনক লক্ষণে বুঝবেন

শ্বাসকষ্ট না থাকলেও হতে পারে হাঁপানি, যে ৫ বিপজ্জনক লক্ষণে বুঝবেন

 

৫. অস্বাভাবিক ক্লান্তি

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ শরীর ভেঙে আসা বা হাত-পা নাড়াতে প্রচণ্ড কষ্ট হওয়া।

লক্ষণ চেনার জীবনদায়ী সূত্র: B.E. F.A.S.T.

চিকিৎসকরা স্ট্রোক শনাক্ত করতে এই সহজ সূত্রটি মনে রাখার পরামর্শ দেন:

B (Balance): ভারসাম্য বা হাঁটাচলায় সমস্যা।

E (Eyes): দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।

F (Face): মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া বা বেঁকে যাওয়া।

A (Arm): এক হাতের দুর্বলতা বা অবশ ভাব।

S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টতা।

T (Time): এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্রই সময় নষ্ট না করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা বা হাসপাতালে নেওয়া।

দ্রুত চিকিৎসা কেন অপরিহার্য?

চিকিৎসকরা জানান, কিছু স্ট্রোক (যেমন—বড় রক্তনালী বন্ধ হওয়া বা হেমারেজ) শুরুতে কোনো ব্যথা তৈরি করে না, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে তা জীবন কেড়ে নিতে পারে। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে জরুরি ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞের শেষ বার্তা

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘সময়ই মস্তিষ্ক’। ব্যথা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। শরীর যদি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর চাবিকাঠি।