খুঁজুন
, ,

শত কোটি টাকার প্রকল্পে ‘সামান্য টিউবওয়েল’ স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি 

এম ফেরদৌস
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
শত কোটি টাকার প্রকল্পে ‘সামান্য টিউবওয়েল’ স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি 
শেয়ার করুন

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্প–১ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন শত কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র কয়েকটি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজেই ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সামান্য এই টিউবওয়েল স্থাপনের কাজেই অনিয়ম থাকায় শত কোটি টাকার প্রকল্পের পুরো কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গুরুতর সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন।

ইজিপি টেন্ডার সুত্রে জানা গেছে, কউকের এই প্রকল্পের কাজে কোটি টাকার বাজেটে চারটি বড় ও ছয়টি ছোট টিউবওয়েল স্থাপনের কাজের মান , সাইজ, নকশা ও পানি স্তরের পরিমাপ নির্ণয়ে আধুনিক প্রযুক্তি বা গামা লোগিংয়ের মাধ্যমে বড় চারটি টিউবওয়েল স্থাপন করতে হবে। সেখানে বড় চারটি টিউবওয়েল কাজের বাজেট ধরা হয়েছে ছিয়ানব্বই লাখ চুয়াল্লিশ হাজার তিনশ পঁয়তাল্লিশ টাকা তিরানব্বই পয়সা। ( ৯৬৪৪,৩৪৫.৯৩)

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিধিমালা উপেক্ষা করে এসব টিউওবয়েলের কাজ চলমান রয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী প্রতিটি টিউবওয়েলে ২৪ ইঞ্চি বোরিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে করা হচ্ছে মাত্র ২০ ইঞ্চি। একইভাবে যেখানে ২৪ ইঞ্চি কাটার ব্যবহারের কথা, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ২০ ইঞ্চির কাটার। ফলে শুরু থেকেই প্রকল্পের কারিগরি মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

আরও গুরুতর অনিয়মের তথ্য মিলেছে কেসিং পাইপ স্থাপনে। নিয়ম অনুযায়ী ২৪ ইঞ্চি বোরিং টিকিয়ে রাখতে ২৬ ইঞ্চি কেসিং পাইপ ব্যবহারের প্রয়োজন থাকলেও সেখানে বাইরে থেকে বসানো হয়েছে মাত্র ২২ ইঞ্চির কেসিং পাইপ। এতে কার্যত ২৪ ইঞ্চি বোরিংয়ের জায়গায় সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ ইঞ্চিতে।

 

এছাড়া পানির স্তর (ওয়াটার লেয়ার বা গভীরতা) নির্ধারণ ও ভূগর্ভস্থ স্তরের সঠিক তথ্য পেতে যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে ‘গামা লগিং’ করার কথা ছিল, সেখানে সেটিও করা হয়নি। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির মান ও পরিমাপ যাচাই ছাড়াই টিউবওয়েল স্থাপন করার প্রমাণ মিলেছে।

 

টিউবওয়েল নির্মাণকাজে নিয়োজিত সাইফুল মিস্ত্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বড় চারটি টিউবওয়েলের বোরিং কাজ তিনি ও দিদার একসঙ্গে করছেন। তবে ওই স্থানে মূল ঠিকাদার হিসেবে শুক্কুর ৮০০ টাকা ফুট দরে কাজের কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। পরে শুক্কুর সেই কাজ সাইফুল মিস্ত্রিকে প্রতি ফুট ৭৯০ টাকা দরে সাব-কন্ট্রাক্ট দেন। এতে প্রতি ফুটে ১০ টাকা করে কমিশন নেন শুক্কুর নামে ঐ ব্যক্তি।

 

এই কাজের মূল ঠিকাদার কে জানতে চাইলে মিস্ত্রি চেনেন না বলে জানান। এছাড়া টিউবওয়েলে পানির স্তর নির্ণয় বা গামা লগিং করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল মিস্ত্রি বলেন, এসব কাজ তাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করা হয়নি। অন্য কেউ এ কাজ করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কথা শুনেছি ঠিকই, তবে নিজ চোখে দেখেননি তিনি।

 

দিদার নামে আরেক মিস্ত্রির একটি টিউবওয়েলের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পানির স্তর নির্ণয় বা গামা লগিংয়ের কোনো কাজ করা হয়েছে কি না জনতে চাইলে সাইফুল মিস্ত্রি বলেন,সেখানেও গামা লোগিং হয়নি বলে জানান।

 

সম্পূর্ণ হওয়া বড় একটি টিউবওয়েলের কাজ করা দিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাকে কেবল বোরিং করার কাজের কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছিল। বোরিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মানদন্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, বা পানির স্তর নির্ণয়ে গামা লোগিং করা হয়েছে কি না – জানতে চাইলে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি  কিছুই জানেন না।

 

এই প্রকল্পের মূল টিকাদার মতিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে টিউবওয়েলের বোরিং ক্যাসিং পাইপ ২৪ ইঞ্চির কথা স্বীকার করে তিনি জানান, এসব কাজ শুক্কুরের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। মিস্ত্রিদের কাজের বিষয়ে তিনি জানেন না।

 

সাইজ ও গামা লোগিংয়ের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার কাছে কোন ফ্রুফ থাকলে আমার ওয়াটসাপে দেন বিষয়টি দেখব বলে প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই পুরো কার্যক্রমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) কোনো প্রকৌশলীর কার্যকর তদারকিও চোখে পড়েনি।

 

কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজের মধ্যে আমাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই,তবে উনারা চাইলে ডিপিএইচই এর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজের মানদন্ড ও ড্রয়িং অন্যান্য বিষয়টি দেখা হয় ।

 

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পটি সরাসরি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হলেও কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে, আবার সেই সাব-ঠিকাদার কাজ করিয়েছে স্থানীয় মিস্ত্রির মাধ্যমে। ফলে একাধিক স্তরে দায় এড়িয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যথাযথ তদারকি না করে কন্ট্রাক্টরের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পন্ন করেছে। এতে শত কোটি টাকার এই প্রকল্পের অন্যান্য খাতেও অনিয়ম হয়েছে কি না- তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহ।

 

কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজ নিয়ে এমন কানাঘুষা নতুন নয়। অতীতেও একাধিক প্রকল্পে তাদের বিরুদ্ধে দায়সারা কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নতুন করে এই উন্নয়ন প্রকল্পে টিউবওয়েল স্থাপনের মতো মৌলিক কাজেই যখন এত অনিয়ম ধরা পড়ছে, তখন পুরো প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

 

এ প্রকল্পের দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সিভিল) আল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব আমি বলতে পারব না,প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বলে দায় এড়ান তিনি।

 

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প পরিচালক)  মো: আব্দুল্লাহ’র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মন্তব্য না পেয়ে সরাসরি অফিসে গেলে রিসিভশনের লেনের মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দেন এসব ব্যপারে মিডিয়ায় তিনি কথা বলবেন না।

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দিননের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালকদের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন তিনি।

 

এভাবেই একে অপরের মাধ্যমে দুর্নীতি অনিয়মের বিষয় নিয়ে দায় এড়িয়ে গেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

 

এদিকে সচেতন মহল বলছে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।