খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

শত কোটি টাকার প্রকল্পে ‘সামান্য টিউবওয়েল’ স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি 

এম ফেরদৌস
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
শত কোটি টাকার প্রকল্পে ‘সামান্য টিউবওয়েল’ স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি 
শেয়ার করুন

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্প–১ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন শত কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র কয়েকটি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজেই ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সামান্য এই টিউবওয়েল স্থাপনের কাজেই অনিয়ম থাকায় শত কোটি টাকার প্রকল্পের পুরো কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গুরুতর সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন।

ইজিপি টেন্ডার সুত্রে জানা গেছে, কউকের এই প্রকল্পের কাজে কোটি টাকার বাজেটে চারটি বড় ও ছয়টি ছোট টিউবওয়েল স্থাপনের কাজের মান , সাইজ, নকশা ও পানি স্তরের পরিমাপ নির্ণয়ে আধুনিক প্রযুক্তি বা গামা লোগিংয়ের মাধ্যমে বড় চারটি টিউবওয়েল স্থাপন করতে হবে। সেখানে বড় চারটি টিউবওয়েল কাজের বাজেট ধরা হয়েছে ছিয়ানব্বই লাখ চুয়াল্লিশ হাজার তিনশ পঁয়তাল্লিশ টাকা তিরানব্বই পয়সা। ( ৯৬৪৪,৩৪৫.৯৩)

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিধিমালা উপেক্ষা করে এসব টিউওবয়েলের কাজ চলমান রয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী প্রতিটি টিউবওয়েলে ২৪ ইঞ্চি বোরিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে করা হচ্ছে মাত্র ২০ ইঞ্চি। একইভাবে যেখানে ২৪ ইঞ্চি কাটার ব্যবহারের কথা, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ২০ ইঞ্চির কাটার। ফলে শুরু থেকেই প্রকল্পের কারিগরি মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

আরও গুরুতর অনিয়মের তথ্য মিলেছে কেসিং পাইপ স্থাপনে। নিয়ম অনুযায়ী ২৪ ইঞ্চি বোরিং টিকিয়ে রাখতে ২৬ ইঞ্চি কেসিং পাইপ ব্যবহারের প্রয়োজন থাকলেও সেখানে বাইরে থেকে বসানো হয়েছে মাত্র ২২ ইঞ্চির কেসিং পাইপ। এতে কার্যত ২৪ ইঞ্চি বোরিংয়ের জায়গায় সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ ইঞ্চিতে।

 

এছাড়া পানির স্তর (ওয়াটার লেয়ার বা গভীরতা) নির্ধারণ ও ভূগর্ভস্থ স্তরের সঠিক তথ্য পেতে যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে ‘গামা লগিং’ করার কথা ছিল, সেখানে সেটিও করা হয়নি। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির মান ও পরিমাপ যাচাই ছাড়াই টিউবওয়েল স্থাপন করার প্রমাণ মিলেছে।

 

টিউবওয়েল নির্মাণকাজে নিয়োজিত সাইফুল মিস্ত্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বড় চারটি টিউবওয়েলের বোরিং কাজ তিনি ও দিদার একসঙ্গে করছেন। তবে ওই স্থানে মূল ঠিকাদার হিসেবে শুক্কুর ৮০০ টাকা ফুট দরে কাজের কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। পরে শুক্কুর সেই কাজ সাইফুল মিস্ত্রিকে প্রতি ফুট ৭৯০ টাকা দরে সাব-কন্ট্রাক্ট দেন। এতে প্রতি ফুটে ১০ টাকা করে কমিশন নেন শুক্কুর নামে ঐ ব্যক্তি।

 

এই কাজের মূল ঠিকাদার কে জানতে চাইলে মিস্ত্রি চেনেন না বলে জানান। এছাড়া টিউবওয়েলে পানির স্তর নির্ণয় বা গামা লগিং করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল মিস্ত্রি বলেন, এসব কাজ তাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করা হয়নি। অন্য কেউ এ কাজ করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কথা শুনেছি ঠিকই, তবে নিজ চোখে দেখেননি তিনি।

 

দিদার নামে আরেক মিস্ত্রির একটি টিউবওয়েলের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পানির স্তর নির্ণয় বা গামা লগিংয়ের কোনো কাজ করা হয়েছে কি না জনতে চাইলে সাইফুল মিস্ত্রি বলেন,সেখানেও গামা লোগিং হয়নি বলে জানান।

 

সম্পূর্ণ হওয়া বড় একটি টিউবওয়েলের কাজ করা দিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাকে কেবল বোরিং করার কাজের কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছিল। বোরিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মানদন্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, বা পানির স্তর নির্ণয়ে গামা লোগিং করা হয়েছে কি না – জানতে চাইলে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি  কিছুই জানেন না।

 

এই প্রকল্পের মূল টিকাদার মতিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে টিউবওয়েলের বোরিং ক্যাসিং পাইপ ২৪ ইঞ্চির কথা স্বীকার করে তিনি জানান, এসব কাজ শুক্কুরের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। মিস্ত্রিদের কাজের বিষয়ে তিনি জানেন না।

 

সাইজ ও গামা লোগিংয়ের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার কাছে কোন ফ্রুফ থাকলে আমার ওয়াটসাপে দেন বিষয়টি দেখব বলে প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই পুরো কার্যক্রমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) কোনো প্রকৌশলীর কার্যকর তদারকিও চোখে পড়েনি।

 

কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজের মধ্যে আমাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই,তবে উনারা চাইলে ডিপিএইচই এর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজের মানদন্ড ও ড্রয়িং অন্যান্য বিষয়টি দেখা হয় ।

 

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পটি সরাসরি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হলেও কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে, আবার সেই সাব-ঠিকাদার কাজ করিয়েছে স্থানীয় মিস্ত্রির মাধ্যমে। ফলে একাধিক স্তরে দায় এড়িয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যথাযথ তদারকি না করে কন্ট্রাক্টরের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পন্ন করেছে। এতে শত কোটি টাকার এই প্রকল্পের অন্যান্য খাতেও অনিয়ম হয়েছে কি না- তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহ।

 

কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজ নিয়ে এমন কানাঘুষা নতুন নয়। অতীতেও একাধিক প্রকল্পে তাদের বিরুদ্ধে দায়সারা কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নতুন করে এই উন্নয়ন প্রকল্পে টিউবওয়েল স্থাপনের মতো মৌলিক কাজেই যখন এত অনিয়ম ধরা পড়ছে, তখন পুরো প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

 

এ প্রকল্পের দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সিভিল) আল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব আমি বলতে পারব না,প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বলে দায় এড়ান তিনি।

 

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প পরিচালক)  মো: আব্দুল্লাহ’র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মন্তব্য না পেয়ে সরাসরি অফিসে গেলে রিসিভশনের লেনের মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দেন এসব ব্যপারে মিডিয়ায় তিনি কথা বলবেন না।

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দিননের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালকদের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন তিনি।

 

এভাবেই একে অপরের মাধ্যমে দুর্নীতি অনিয়মের বিষয় নিয়ে দায় এড়িয়ে গেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

 

এদিকে সচেতন মহল বলছে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সালাউদ্দিন আহমদের উখিয়া সফর: প্রচারণা বন্ধের ঘোষণা জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারীর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
সালাউদ্দিন আহমদের উখিয়া সফর: প্রচারণা বন্ধের ঘোষণা জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারীর
শেয়ার করুন

কক্সবাজারে আগামীকাল বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদের উখিয়া সফরকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণায় বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী।

 

​মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, বিএনপির এই শীর্ষ নেতার নির্বাচনী সফর উপলক্ষে বুধবার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উখিয়ায় তাঁর সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখা হবে।

 

​মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, সালাউদ্দিন আহমদের আগমনকে সম্মান জানিয়ে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এই ছয় ঘণ্টা নির্বাচনী কর্মকাণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

এদিকে ২ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর কক্সবাজারে নির্বাচনী সমাবেশ থাকায় নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলেন কক্সবাজার -৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান কাজল।

 

এমন রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতি সকল প্রার্থীর জন্যই অনুকরণীয় বলছেন নেটিজেনরা।

শবে বরাতে রাসুল সা. যেসব আমল করতেন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
শবে বরাতে রাসুল সা. যেসব আমল করতেন
শেয়ার করুন

শাবান মাস মুমিনের আমলের মাস, শাবান মাস মুমিনের আনন্দের মাস, খুশির মাস। আর এ মাসের ১৪ তারিখের রাত মুসলমানদের অন্যতম একটি রাত। ভারতীয় উপমহাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে এ রাত শবে বরাত নামে পরিচিত। হাদিসের ভাষায় এ রাতকে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরাত বলা হয়। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস শরিফে বিবৃত হয়েছে, মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাত অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)

 

শবে বরাতে রাসুল (সা.) যেসব আমল করতেন

 

১. পুরো রাত জেগে ইবাদত করতেন। যেমন-নফল নামাজ পড়া, কুরআন তেলাওয়াত করা, তাসবিহ পাঠ করা, তওবা-ইস্তেগফার ইত্যাদি পড়া। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেন– পাঁচটি রাত এমন আছে, যে রাতে বান্দার কোনও দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। আর তা হলো– জুমআর রাতের দোয়া, রজব মাসের প্রথম রাতের দোয়া, নিসফা শাবান তথা অর্ধ শাবানের রাতের দোয়া, ঈদুল ফিতর তথা রোজার ঈদের রাতের দোয়া, ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদের রাতের দোয়া। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৭৯২৭, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি: ৬৯৮৭)

 

 

২. পুরো শাবান মাসেই অধিক পরিমাণে রোজা রাখা উত্তম। রাসুল (স.) প্রায় পুরো শাবান মাস রোজা রাখতেন। ফাতিমা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলকে (স.) শাবান ও রমযান ছাড়া দুই মাস একাধারে রোজা রাখতে দেখিনি। (সহিহ বুখারি: ১৯৬৯, সহিহ মুসলিম: ১১৫৬)

 

অন্য হাদিসে বিবৃত হয়েছে, রাসুল (স.) বলেন, যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত আসবে, তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে এবং দিনে রোজা পালন করবে। কেননা এই দিন সূর্যাস্তের পরই আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছো ক্ষমাপ্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। কে আছো রিজিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেবো। কে আছো বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে বিপদমুক্ত করবো। ফজর হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এ কথা বলতে থাকেন। (ইবন মাজাহ: ১৩৮৮)

 

৩. কিয়ামুল লাইল: হাদিস শরীফে বিবৃত হয়েছে, আলা ইবনুল হারিস (রা.) থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রাসুল (স.) রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে এতো দীর্ঘ সময় সেজদায় রইলেন যে, আমার ধারণা হলো হয়ত তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তখন আমি তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিয়ে দেখলাম। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা ওহে হুমাইরা, তোমার কি আশঙ্কা হয়েছে যে, রাসুল (স.) তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, হে রাসুলুল্লাহ আপনার দীর্ঘ সেজদায় আমার আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা।

 

রাসুল (স.) জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। তখন রাসুল (স.) বললেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন, বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। (শুয়াবুল ঈমান: ৩৫৫৪)

 

সুতরাং এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ নফল নামাজে দীর্ঘ কিরাত পড়া এবং লম্বা সেজদা করা এ রাতের বিশেষ একটি আমল।

 

৪. ভিত্তিহীন কাজ পরিহার: হাদিস শরীফে শবে বরাতের রাতে রাসুল (স.) থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে কোনও ইবাদত প্রমাণিত নেই। সাহাবায়ে কেরামদের থেকেও এর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং আমাদের সমাজে প্রচলিত শবে বরাতের বিশেষ পদ্ধতির যে নামাজের কথা বলা হয় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট। এগুলো বিশ্বাস করা এবং এগুলোর ওপর আমল করা কোনোভাবেই জায়েজ নেই।

 

৫. ক্ষমা প্রার্থনা করা: শবে বরাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা। কারণ বরকতময় এই রাতে আল্লাহ তাআলা প্রথম আকাশে এসে বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন। তাদের গুনাহগুলো মাফ করেন। হাদিস শরীফে বিবৃত হয়েছে, রাসুল (স.) বললেন, যখন অর্ধ শাবানের রাত আসে তখন আল্লাহ তাআলা প্রথম আকাশে অবস্থান করে, মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া অন্যদের ক্ষমা করে দেন। (মুসনাদে বাজজার: ৮০)

আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় হামলা চালাচ্ছে বিএনপি, অভিযোগ এনসিপির

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় হামলা চালাচ্ছে বিএনপি, অভিযোগ এনসিপির
শেয়ার করুন

ভোটের প্রচারে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করছে বলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশব্যাপী হামলার প্যাটার্ন অনুযায়ী একটা নির্দিষ্ট দলই এসব করে যাচ্ছে।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আইমান রাহাত এই অভিযোগ করেন।

 

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

এনসিপির পক্ষ থেকে সিইসি বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে সম্প্রতি ঘটা আটটি অভিযোগের বিষয়ে তুলে ধরা হয়।

 

এসময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আরও অভিযোগ করে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন তার বক্তব্য বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ে পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআইসহ তিন প্রতিষ্ঠানের জরিপের কথা উল্লেখ করেছেন। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

 

একই সঙ্গে গত ৩১ জানুয়ারি তারেক রহমানের বক্তব্য ১০ হাজারের কৃষি ঋণ মাফের রেশ ধরেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সহযোগী হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ জানানো হয়।