খুঁজুন
, ,

সাগর বাতাসে নারিকেল গাছের দোল, সেন্টমার্টিনে বাড়ছে আকর্ষণের ঢেউ

আবদুল্লাহ আল সম্রাট(টেকনাফ,কক্সবাজার)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
সাগর বাতাসে নারিকেল গাছের দোল, সেন্টমার্টিনে বাড়ছে আকর্ষণের ঢেউ
শেয়ার করুন

 

 

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। নীল সমুদ্র, সাদা বালির সৈকত, নারিকেল গাছের সারি আর প্রবালপাথরের ঝলক সব মিলিয়ে এই ছোট্ট দ্বীপ যেন এক টুকরো স্বর্গ। দেশের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত দ্বীপটি প্রকৃতির রূপ লাবণ্যে ভরপুর, যা প্রতি বছর হাজারো পর্যটককে টেনে নেয়।

সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখানকার স্বচ্ছ নীল জলরাশি। সূর্যের আলো পড়লে পানির নিচে দেখা যায় বিচিত্র রঙের মাছ, প্রবাল ও শৈবাল। দ্বীপজুড়ে সারি সারি নারিকেল গাছের ছায়ায় ঢেউয়ের গর্জন আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ যেন মুগ্ধ করে প্রতিটি পর্যটককে। এজন্য অনেকেই একে ভালোবেসে ডাকেন ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামে।

সেন্টমার্টিনের প্রবাল, নীল সমুদ্র, কেয়াগাছ, সাদা বালুকাবেলা, পাথর, সহ নানান সৌন্দর্যের মধ্যে পযর্টকদের আরও বেশি আকর্ষণ জোগায় নারিকেল জিনজিরা, সারি সারি নারিকেল গাছ গুলো।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ প্রকৃতিক সৌন্দর্য গুলো একনজরে : সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। নীল সমুদ্র, সাদা বালির সৈকত আর প্রবালপাথরের মিশেলে গঠিত এই দ্বীপ প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি।

নীল জলরাশির স্বচ্ছতা: এখানকার সমুদ্রের পানি বাংলাদেশের অন্য সব সৈকতের তুলনায় সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছ ও নীলাভ। সূর্যের আলোয় পানির নিচে মাছ, প্রবাল ও শৈবালের রঙ স্পষ্ট দেখা যায়।
নারিকেল গাছের স্বর্গরাজ্য : পুরো দ্বীপজুড়ে হাজারো নারিকেল গাছের সারি যেন প্রকৃতির সাজানো শোভা। এজন্য অনেকে একে “নারিকেল জিঞ্জিরা” নামেও ডাকেন।
চেরাদ্বীপের বিস্ময়: মূল দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট চেরাদ্বীপ, জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যার রূপ পাল্টে যায়। ভাটার সময় হেঁটে যাওয়া যায়, আর জোয়ারে পুরো এলাকা পানিতে ঢেকে যায়।
প্রবালের রাজ্য ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য : এখানে পাওয়া যায় নানা প্রজাতির প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, কাঁকড়া ও নানা রঙের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাছ—যা বাংলাদেশের অন্য কোথাও নেই।
তারাভরা রাতের জাদু : শহরের কোলাহলহীন দ্বীপে রাতে আকাশজুড়ে অসংখ্য তারা দেখা যায়। চাঁদের আলোয় সৈকতের বালি ঝিকমিক করে ওঠে যেন রূপকথার পৃথিবী।
প্রাকৃতিক শান্তি ও নির্জনতা: ছোট্ট দ্বীপে নেই কোনো গাড়ির শব্দ বা ধোঁয়া। শুধু ঢেউয়ের গর্জন আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ যা মনকে শান্ত করে।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য: সেন্টমার্টিন থেকে একসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় বাংলাদেশে এমন সৌভাগ্যবান স্থান আর নেই।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে,সেন্টমার্টিনে পযর্টন মৌসুম শুরু হলে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি পযর্টকরা প্রবাল দ্বীপে ঘুরতে যান। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বরাবরই সারি সারি নারিকেল গাছ গুলো অন্যতম আকর্ষণ জোগায়।এবং দ্বীপের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসব নারিকেল গাছ যেন প্রকৃতির সাজানো এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।

সূর্যের আলো যখন পানির উপর পড়ে আর বাতাসে দুলে ওঠে নারিকেল পাতাগুলো। প্রকৃতির এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ছুটে যান সেন্টমার্টিনে।প্রবাল ও সমুদ্রের নীলাভ সৌন্দর্যের সঙ্গে নারিকেল জিনজিরার সবুজ আবহ মিলিয়ে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন নারিকেল জিনজিরা, নারিকেল গাছ।

আরও জানা গেছে,তবে কক্সবাজার সহ অন্যান্য পযর্টন স্থানে পযর্টকদের আনা-ঘনা ভরপুর হতে শুরু করলেও এ বছর এখনো সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকরা যাওয়া শুরু করেনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন আগামী নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পযর্টকরা যেতে পারবেন।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ জানান, দ্বীপের চারপাশে সারি সারি দাড়িয়ে থাকা নারিকেল গাছগুলো শুধু সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং দ্বীপবাসীর জীবিকারও উৎস হয়ে উঠেছে। এই দ্বীপের ডাব পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয়।প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সেন্টমার্টিন কেবল একটি দ্বীপ নয়, বরং সমুদ্র ও সবুজের এক চিরন্তন রোমাঞ্চ ভরা মিলনস্থল।

তিনি আরও জানান, সেন্টমার্টিনে স্থানীয় যেসব ব্যক্তিরা জমি বিক্রি করেছে সেগুলো সহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের ও পোকামাকড়ের কারনে নারিকেল গাছ সংখ্যা কমলেও এখন নতুন করে অনেকেই খালি জায়গায় নারিকেল লাগিয়েছেন।
আগে ত শুধু গ্রামের মধ্যে গাছ ছিল, ধানের জমি, বালিয়াড়ি, জলাশয় ইত্যাদিতে গাছ ছিল না।এখন সব জায়গায় নারিকেল গাছ রোপন করা হয়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফয়েজুল ইসলাম জানান,সেন্টমার্টিন দ্বীপের অপর নাম নারিকেল জিনজিরা, এই নারিকেল জিনজিরাতে এক সময় নারিকেল ডাবে ভরপুর ছিলো, দেশ-বিদেশি পযর্টকদের কাছে এই ডাবের চাহিদা বেশি।দ্বীপের চাহিদা পূরণ করে টেকনাফ, কক্সবাজার  ও চট্টগ্রামেও নিয়ে বিক্রি করা হতো।

পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ডাবের চাহিদা পর্যটকদের কাছে বৃদ্ধি পেলেও কয়েক বছর ধরে সেন্টমার্টিনের নারিকেল গাছে সাদা মাছির আক্রমণে অনেক গাছ মারা গেছে। এখন বেশির ভাগ নারিকেল গাছে ফল শূন্য।

তিনি আরও জানান, এ বছর এখনো তো কোন পযর্টক দ্বীপে ভ্রমণে আসেনি। তবে বিগত সময় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে দ্বীপের নারিকেল গাছের সৌন্দর্য পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ জোগায়তেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন জানান,সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। আমরা চাই এই সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করা। স্থানীয় জনগণের জীবিকা যেন টেকসই হয় এবং দ্বীপের পরিবেশ যেন রক্ষা পায়। নারিকেল গাছ গুলো থেকে পোকামাকড় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।