কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টা ও ৯টায় ‘দুই ঈদ জামাত’
চন্দ্র উদয় সাপেক্ষে আগামীকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) অথবা পরশু শনিবার (২১ মার্চ) ইসলাম ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব ঈদুল ফিতর পালিত হবে। কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে গত ৩ বছরের ন্যায় এবারো ঈদুল ফিতরের জামাত হবে পর পর ২টি। প্রথম জামাত সকাল ৮টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (বর্তমানে জেলা মডেল মসজিদ) এর দীর্ঘ ৩৫ বছরের খতিব আল্লামা মাহমুদুল হক। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি সোলাইমান কাসেমী।
জেলা প্রশাসক মো: আ: মান্নানের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীবের সঞ্চালনায় গত ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আদনান চৌধুরী জানান, কৃচ্ছতাসাধন করে আর্থিক ব্যয় কমাতে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান প্যান্ডল ছাড়া খোলামাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার জন্য প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সভায় উপস্থিত সকলে অন্যান্য বছরের মতো প্যান্ডেল নির্মাণ করে মুসল্লীদের সাবলীল, মনোরম ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার স্বার্থে সভায় পুরো ঈদগাহ ময়দান সামিয়না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে সামিয়ানার উপরে ত্রিপল দেওয়া হবেনা। ফলে বৃষ্টি হলে মুসল্লীদের সাময়িক দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ জানান, ঈদুল ফিতর উদযাপন বিষয়ক প্রস্তুতি সভায় সামিয়ানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর পরই বিভিন্ন ক্যাটাগীরর প্রায় ১০০ শ্রমিক ২শিফটে রাত দিন ঈদগাহ ময়দানে সামিয়ানা টাঙানো সহ অন্যান্য কাজ করছেন। তিনি আরো জানান, পৌরসভার কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন। ইতিমধ্যে শতকরা ৭০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ আগামী ১৯ মার্চ রাতের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা হবে। পুরো ঈদগাহ ময়দান, প্যান্ডেল ও আশেপাশের এলাকা ও সড়কগুলোকে মনোরম সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক ও ডিডিএলজি (উপসচিব) মো: শামীম আল ইমরান, প্রকৌশলী সহ অন্যান্য দায়িত্বশীলেরা ঈদগাহ ময়দানের কাজ পরিদর্শন করেছন। ছৈয়দুল হক আজাদ আরো জানান, ঈদের দিন উৎসবমূখর পরিবেশে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সম্মানিত মুসল্লীদের বরনে কক্সবাজার পৌরসভা থেকে সম্ভব সব ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্যান্ডেল নির্মাণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত এস.এম ডেকোরেশন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর সত্বাধিকারী কমল দাশ সাধন জানান ১৬ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন বিশাল প্যান্ডেলের আয়তন প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট। ২৯ রমজান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদ উদিত হতে পারে, এ টার্গেট নিয়েই তারা ময়দানের সমস্ত কাজ শেষ করবেন। তিনি আরো জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সম্মানিত মুসল্লীদের আরো বেশী সেবাদানের কথা মাথায় রেখে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর মুসল্লীরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে যাতে অধিকতর বেশী আনন্দ উপভোগ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেজন্য ময়দানে বাড়তি কিছু নান্দনিক আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আয়োজন মুসল্লীদের উৎসবের আমেজ বৃদ্ধি ও বিনোদনে ভূমিকা রাখবে বলে কমল দাশ সাধন জানিয়েছেন।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ জানান, ৫টি গেইট দিয়ে মুসল্লীরা ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করতে পারবেন। ২ শত মুসল্লী যাতে একসাথে অজু করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। ময়দানে মুসল্লীদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ৫টি গেইট দিয়ে মুসল্লীরা ময়দানে প্রবেশের সময় প্রত্যেককে আতর, ৫০০ মি:লি: মিনারেল ওয়াটার, খেজুর এবং টিস্যু উপহার দেওয়া হবে। ময়দানে মনিটরিং সেল সার্বক্ষনিক কাজ করবে। তিনি আরো জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়ক গুলোতে ১৫ টি ব্যানার সহ তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষনিক নজরদারিতে থাকবে। স্টেডিয়াম, স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশের রোড, হাসপাতাল সড়ক ও জেলা পরিষদ মোড়ে আর্চওয়ে অর্থাৎ নিরাপত্তা গেইট বাসানো হবে। এছাড়া, কক্সবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে ২স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোন মুসল্লী অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায়, সেজন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।
এস.এম ডেকোরেশন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর সত্বাধিকারী কমল দাশ সাধন জানান, অত্যাধিক তাপমাত্রার কথা চিন্তা করে প্যান্ডেলে ১৫০ টির বেশি সিলিং ফ্যান, ১০টি স্ট্যান্ড ফ্যান ও ১০টি এয়ারকুলার লাগানো হবে। কক্সবাজার বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা গেছে, ঈদগাহ ময়দানে ঈদের দিন সার্বক্ষনিক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোন ধরনের অগ্নিকান্ড সামলানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ময়দানের পাশে স্টেনবাই রাখা হবে।এদিকে, ঈদুল ফিতর উদযাপন বিষয়ক প্রস্তুতি সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীবকে আহবায়ক করে ঈদুল ফিতরের জামাত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক বা তাঁর প্রতিনিধি, জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখার সহকারী কমিশনার, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক, জেলা তথ্য অফিসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বা তাঁর প্রতিনিধি, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব রফিকুল হুদা চৌধুরী, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, কক্সবাজার শহর জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল। ব্যবস্থাপনা কমিটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদুল ফিতরের জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি মনিটরিং করছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক ও ডিডিএলজি মো: শামীম আল ইমরান (উপসচিব) কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সম্মানিত মুসল্লী, পৌরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন