খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬ চৈত্র, ১৪৩২

ফাঁকা রাস্তায় ছিনতাইকারীর টানে রিকশায় থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
ফাঁকা রাস্তায় ছিনতাইকারীর টানে রিকশায় থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু
শেয়ার করুন

রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

নিহত মুক্তার স্বামী লিমন হোসেন জানান, তারা দক্ষিণখান ফায়দাবাদ এলাকায় বসবাস করেন। সকালে তার স্ত্রী ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে ঈদের কেনাকাটা করতে মিরপুর পল্লবীর একটি মার্কেটে যাচ্ছিলেন। রিকশাটি উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকার থেকে ছিনতাইকারীরা মুক্তার হাতের ব্যাগ লক্ষ্য করে সজোরে টান দেয়। এতে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পিচঢালা রাস্তায় আছড়ে পড়েন এবং মাথায় ও কপালে প্রচণ্ড আঘাত পান।

 

 

 

ঘটনার পর পথচারী ও রিকশার অন্য যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে টঙ্গী আহসানউল্লাহ মেডিকেল ও পরবর্তীতে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সবশেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দুই বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামে।

 

 

 

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতাল থেকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের মাথায় ও কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তুরাগ থানা পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

কক্সবাজারে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
শেয়ার করুন

কক্সবাজারে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে প্রায় দুইশত সুবিধাবঞ্চিত, ঝুঁকিপূর্ণ ও পথশিশুর মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। “শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তাদের সাথে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) বাদ আসর কেন্দ্র প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে ঈদের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কেরাত ও সংগীত প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, দোয়া মাহফিল, ইফতার এবং মেহেদী ও আতর উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় কেন্দ্রের নিবাসী শিশুরা।
কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতারের সভাপতিত্বে এবং লাইফস্কিল ট্রেইনার ক্যনু মং মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন নিবাসী শিশু নিজাম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ফরহাদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর আকতার আলম, কক্সবাজার পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা শামীম আকতার, সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে একক ইসলামিক সংগীত পরিবেশন করেন নিবাসী শিশু জান্নাতুল মাওয়া মাহিয়া এবং দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন তানিয়া আক্তার ও তার দল। এছাড়া “ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করা” শিরোনামে শিশুদের পরিবেশিত ইসলামী নাটিকা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য, ঈদুল ফিতরের মাহাত্ম্য এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে কেরাত ও ইসলামিক সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে অতিথিবৃন্দ শিশুদের মাঝে ঈদের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী তুলে দেন। সবুজবাগ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. ইকবাল হোসাইন দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন।

ইফতার শেষে শিশুদের অংশগ্রহণে মেহেদী পরানো ও আতর ছিটানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কেন্দ্র প্রাঙ্গণ।
কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, “আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই আমাদের এই আয়োজন।”

ঈদ দুয়ারে, অথচ ফিরল না একজন রোহিঙ্গাও

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
ঈদ দুয়ারে, অথচ ফিরল না একজন রোহিঙ্গাও
শেয়ার করুন

প্রত্যাবাসনে নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। উল্টো নতুন করে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজার-এ।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান জাতিসংঘের মহাসচিবের উপস্থিতিতে ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০২৬ সালের ঈদের আগেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে। সময় গড়িয়েছে, ঈদ এখন দুয়ারে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, গত এক বছরে একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে পারেনি মিয়ানমার-এ।

প্রত্যাবাসনে নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। উল্টো নতুন করে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজার-এ। তবে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, মানবিক সংকট আর ভবিষ্যতহীনতার মাঝে আটকে থাকা এই মানুষগুলো এখনো আশায় বুক বাঁধছে নতুন সরকারের উদ্যোগে হয়তো খুলবে প্রত্যাবাসনের পথ, ফিরবে নিজ ভূমিতে নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন।

ইফতার সামনে রেখে লাখো রোহিঙ্গার উপস্থিতি, পাশে জাতিসংঘ-এর মহাসচিব। ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ, উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেই সমাবেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস দিয়েছিলেন বড় প্রতিশ্রুতি- ২০২৬ সালের ঈদ হবে নিজ দেশ মিয়ানমার-এ।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তৃতা দেন প্রধান উপদেষ্টা। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের দুঃখ দেখে সমাধান করতে জাতিসংঘ মহাসচিব এসেছেন। এই ঈদে না হোক, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা নিজের দেশে ঈদ করতে পারবেন, সেই প্রত্যাশা করি।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাতে সারা দুনিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনে লড়াই করতে হবে। ঈদে মানুষ আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করে। রোহিঙ্গাদের সেই সুযোগও নেই।

এ ঘোষণায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন কক্সবাজার-এর ৩৩টি ক্যাম্পে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও নেই প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। উল্টো গত ১৫ মাসে নতুন করে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বাংলাদেশে।

উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্প-১ এর বাসিন্দা মোহাম্মদ রিয়াজ (৩০) বলেন, ‘গত বছরের রমজানে ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এলে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। বিশ্বে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিজে এসে আমাদের মতো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর খোঁজ নিয়েছেন-এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া ছিল। সেই সময় ড. ইউনুসের ঘোষণায় আমরা আরও আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ২০২৬ সালের ঈদ আমরা নিজ দেশ মিয়ানমার-এ উদযাপন করতে পারব। কিন্তু এখন বাস্তবতা ভিন্ন। ২০২৬ সালের ঈদ চলে এসেছে-ড. ইউনুস আছেন যুক্তরাষ্ট্র-এ, আর আন্তোনিও গুতেরেস গেছেন জেনেভা-য়। অথচ আমরা রোহিঙ্গারা এখনো বাংলাদেশ-এর শরণার্থী ক্যাম্পেই রয়ে গেছি।’

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনুস ঘোষণা দিয়েছিলেন-২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা রোহিঙ্গারা নিজ ভূমি আরাকান-এ উদযাপন করতে পারবে। এমনকি সেখানেই ফিরে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত করার সুযোগও হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘোষণায় রোহিঙ্গাদের মাঝে এতটাই আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, কষ্ট-দুঃখ ভুলে গিয়েছিল তারা। কিন্তু সময় গড়ালেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।’

এদিকে গত ৮ বছরে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিলেও, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকায় তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও আশার আলো দেখছেন আশ্রিতরা।

ক্যাম্প-১৮-এর বাসিন্দা আব্দুল হাই (৪৬) জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সহিংসতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশ-এ আশ্রয় নেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৯১-৯২ সালে যে সরকার ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নতুন সরকারকে ঘিরে তাদের মাঝে আবারও আশার সঞ্চার হয়েছে।

আব্দুল হাইয়ের প্রত্যাশা, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে একদিন তারা নিজ ভূমি রাখাইনে ফিরে যেতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে-এমনটাই বিশ্বাস করছেন ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

সচেতন মহলের মতে, বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য এটি ছিল বড় একটি সুযোগ। কিন্তু সেই উদ্যোগ ছিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান বলেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বক্তব্যে তার নিজস্ব চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন হলেও, সেই বক্তব্যের এখনো কোনো বাস্তব ফলাফল দেখা যায়নি এবং ভবিষ্যতেও তা কতটা কার্যকর হবে-তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের যদি সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর উদ্যোগ থাকে, তাহলে কিছু ইতিবাচক ফল আসতে পারে। তবে আপাতত দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এ বিষয়ে খুব বেশি আশা দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ক্যাম্পগুলোতে বাড়ছে সংকট। জ্বালানি ঘাটতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটও। যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই; বরং পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন-এ সংঘাত বেড়েছে-সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মি-এর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের ফলে সেখানে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারাও নির্যাতনের মুখে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। এমনকি সীমান্ত এলাকাতেও নতুন করে রোহিঙ্গা জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার-এর সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ থাকলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। পরিস্থিতি এখনো প্রত্যাবাসনের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। পাশাপাশি সেখানে অবকাঠামো ও আর্থিক সংকটও বিদ্যমান, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

ঈদ আসে, ঈদ যায়-কিন্তু বদলায় না রোহিঙ্গাদের ভাগ্য। প্রতিশ্রুতির পরও যখন শূন্য প্রত্যাবাসন, তখন প্রশ্ন একটাই- আর কত অপেক্ষা?

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টা ও ৯টায় ‘দুই ঈদ জামাত’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টা ও ৯টায় ‘দুই ঈদ জামাত’
শেয়ার করুন

চন্দ্র উদয় সাপেক্ষে আগামীকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) অথবা পরশু শনিবার (২১ মার্চ) ইসলাম ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব ঈদুল ফিতর পালিত হবে। কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে গত ৩ বছরের ন্যায় এবারো ঈদুল ফিতরের জামাত হবে পর পর ২টি। প্রথম জামাত সকাল ৮টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (বর্তমানে জেলা মডেল মসজিদ) এর দীর্ঘ ৩৫ বছরের খতিব আল্লামা মাহমুদুল হক। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি সোলাইমান কাসেমী।

জেলা প্রশাসক মো: আ: মান্নানের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীবের সঞ্চালনায় গত ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আদনান চৌধুরী জানান, কৃচ্ছতাসাধন করে আর্থিক ব্যয় কমাতে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান প্যান্ডল ছাড়া খোলামাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার জন্য প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সভায় উপস্থিত সকলে অন্যান্য বছরের মতো প্যান্ডেল নির্মাণ করে মুসল্লীদের সাবলীল, মনোরম ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার স্বার্থে সভায় পুরো ঈদগাহ ময়দান সামিয়না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে সামিয়ানার উপরে ত্রিপল দেওয়া হবেনা। ফলে বৃষ্টি হলে মুসল্লীদের সাময়িক দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ জানান, ঈদুল ফিতর উদযাপন বিষয়ক প্রস্তুতি সভায় সামিয়ানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর পরই বিভিন্ন ক্যাটাগীরর প্রায় ১০০ শ্রমিক ২শিফটে রাত দিন ঈদগাহ ময়দানে সামিয়ানা টাঙানো সহ অন্যান্য কাজ করছেন। তিনি আরো জানান, পৌরসভার কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন। ইতিমধ্যে শতকরা ৭০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ আগামী ১৯ মার্চ রাতের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা হবে। পুরো ঈদগাহ ময়দান, প্যান্ডেল ও আশেপাশের এলাকা ও সড়কগুলোকে মনোরম সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক ও ডিডিএলজি (উপসচিব) মো: শামীম আল ইমরান, প্রকৌশলী সহ অন্যান্য দায়িত্বশীলেরা ঈদগাহ ময়দানের কাজ পরিদর্শন করেছন। ছৈয়দুল হক আজাদ আরো জানান, ঈদের দিন উৎসবমূখর পরিবেশে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সম্মানিত মুসল্লীদের বরনে কক্সবাজার পৌরসভা থেকে সম্ভব সব ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্যান্ডেল নির্মাণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত এস.এম ডেকোরেশন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর সত্বাধিকারী কমল দাশ সাধন জানান ১৬ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন বিশাল প্যান্ডেলের আয়তন প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট। ২৯ রমজান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদ উদিত হতে পারে, এ টার্গেট নিয়েই তারা ময়দানের সমস্ত কাজ শেষ করবেন। তিনি আরো জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সম্মানিত মুসল্লীদের আরো বেশী সেবাদানের কথা মাথায় রেখে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর মুসল্লীরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে যাতে অধিকতর বেশী আনন্দ উপভোগ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেজন্য ময়দানে বাড়তি কিছু নান্দনিক আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আয়োজন মুসল্লীদের উৎসবের আমেজ বৃদ্ধি ও বিনোদনে ভূমিকা রাখবে বলে কমল দাশ সাধন জানিয়েছেন।

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ জানান, ৫টি গেইট দিয়ে মুসল্লীরা ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করতে পারবেন। ২ শত মুসল্লী যাতে একসাথে অজু করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। ময়দানে মুসল্লীদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ৫টি গেইট দিয়ে মুসল্লীরা ময়দানে প্রবেশের সময় প্রত্যেককে আতর, ৫০০ মি:লি: মিনারেল ওয়াটার, খেজুর এবং টিস্যু উপহার দেওয়া হবে। ময়দানে মনিটরিং সেল সার্বক্ষনিক কাজ করবে। তিনি আরো জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়ক গুলোতে ১৫ টি ব্যানার সহ তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষনিক নজরদারিতে থাকবে। স্টেডিয়াম, স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশের রোড, হাসপাতাল সড়ক ও জেলা পরিষদ মোড়ে আর্চওয়ে অর্থাৎ নিরাপত্তা গেইট বাসানো হবে। এছাড়া, কক্সবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে ২স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোন মুসল্লী অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায়, সেজন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।

এস.এম ডেকোরেশন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর সত্বাধিকারী কমল দাশ সাধন জানান, অত্যাধিক তাপমাত্রার কথা চিন্তা করে প্যান্ডেলে ১৫০ টির বেশি সিলিং ফ্যান, ১০টি স্ট্যান্ড ফ্যান ও ১০টি এয়ারকুলার লাগানো হবে। কক্সবাজার বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা গেছে, ঈদগাহ ময়দানে ঈদের দিন সার্বক্ষনিক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোন ধরনের অগ্নিকান্ড সামলানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ময়দানের পাশে স্টেনবাই রাখা হবে।এদিকে, ঈদুল ফিতর উদযাপন বিষয়ক প্রস্তুতি সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীবকে আহবায়ক করে ঈদুল ফিতরের জামাত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক বা তাঁর প্রতিনিধি, জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখার সহকারী কমিশনার, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক, জেলা তথ্য অফিসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বা তাঁর প্রতিনিধি, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব রফিকুল হুদা চৌধুরী, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, কক্সবাজার শহর জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল। ব্যবস্থাপনা কমিটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদুল ফিতরের জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি মনিটরিং করছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক ও ডিডিএলজি মো: শামীম আল ইমরান (উপসচিব) কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সম্মানিত মুসল্লী, পৌরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।