খুঁজুন
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

নিকোলাস মাদুরো ও আধিপত্যবাদী মার্কিন নীতির নগ্ন মুখ

জসিম উদ্দিন
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
নিকোলাস মাদুরো ও আধিপত্যবাদী মার্কিন নীতির নগ্ন মুখ
শেয়ার করুন

নিজেকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার বিশ্বরক্ষক হিসেবে তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের জুড়ি নেই। বক্তৃতায় নৈতিকতা, ঘোষণায় মানবিকতা—সবই আছে। কিন্তু বাস্তব রাজনীতির ময়দানে এই মুখোশ যতই ঝকঝকে হোক, ভেতরের চেহারা ক্রমেই নগ্ন হয়ে উঠছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই নগ্নতারই সর্বশেষ ও সবচেয়ে ভয়ংকর উদাহরণ।

অন্যায়ভাবে ভেনিজুয়েলায় নজির বিহীন হামলার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র অপহরণ করে নিয়ে গেছে।যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। এটি কেবল ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে আগ্রাসন নয়; এটি গোটা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মুখে সপাটে চপেটাঘাত। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাহস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো যদি এভাবে ভেঙে পড়ে, তবে বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তিই বা কোথায় দাঁড়ায়?

গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী রাষ্ট্র যদি অন্য দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে এভাবে তুলে নিতে পারে, তাহলে গণতন্ত্র শব্দটির আর কোনো নৈতিক ভিত্তি অবশিষ্ট থাকে কি? আরও বড় প্রশ্ন হলো—এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোথায়? আন্তর্জাতিক আইন কোথায়? নাকি পরাশক্তির ক্ষেত্রে আইন প্রযোজ্য নয়, আর দুর্বল রাষ্ট্রের জন্যই কেবল নিয়ম?

যদিও এটি নতুন কিছু নয়। লাতিন আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন আধিপত্যবাদী নীতির পরীক্ষাগার। কখনো সামরিক অভ্যুত্থান, কখনো অর্থনৈতিক অবরোধ, কখনো নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ ঘোষণার কৌশল—সবই পুরোনো রেসিপি। নিকোলাস মাদুরো সেই ধারাবাহিকতারই আরেক নাম। ভেনিজুয়েলার অপরাধ একটাই—তারা ওয়াশিংটনের নির্দেশে দেশ চালাতে রাজি নয়।

এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছেন। তার শাসনামলে কূটনৈতিক ভদ্রতার মুখোশ অনেকটাই ঝরে পড়েছে; নগ্ন ক্ষমতার ভাষাই হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রনীতির প্রধান হাতিয়ার। জাতিসংঘের প্রস্তাব উপেক্ষা, আন্তর্জাতিক চুক্তিকে তুচ্ছ করা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত—সবকিছু মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত প্রমাণ করেছে যে তাদের কাছে আন্তর্জাতিক আইন কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সুবিধামতো ব্যবহারের একটি বিকল্প মাত্র।

মার্কিন নীতির সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি লুকিয়ে আছে তাদের দ্বিমুখী মানদণ্ডে। মধ্যপ্রাচ্যে বা অন্যত্র স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে কোনো দ্বিধা নেই, অথচ লাতিন আমেরিকায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্ট হলেই তিনি ‘স্বৈরাচারী’। মানবাধিকার এখানে নীতি নয়, বরং রাজনৈতিক অস্ত্র—যা ব্যবহার হয় কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী। এই দ্বিচারিতাই জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থাকে ক্রমশ অর্থহীন করে তুলছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক শ্বাসরোধের কৌশল। ভেনিজুয়েলার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির অর্থনীতি কার্যত পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে, যার মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি—সবকিছুর সংকটে ভুগেছে জনগণ। অথচ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও এসব নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো বৈশ্বিক প্রতিরোধ দেখা যায় না। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সংকট তৈরি করা, তারপর সেই সংকট দেখিয়ে নৈতিকতার ভাষণ—এটাই আধিপত্যবাদী রাজনীতির চিরচেনা চক্র।

তবে ইতিহাস এক জায়গায় স্থির থাকে না। একক পরাশক্তির দাপট আজ আর আগের মতো অপ্রতিরোধ্য নয়। নতুন শক্তির উত্থান, আঞ্চলিক জোটের সংহতি এবং বৈশ্বিক জনমতের পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে—বিশ্ব আর জোরের রাজনীতি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনা সেই পরিবর্তনেরই আরেকটি সতর্ক সংকেত, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য এক কঠিন পরীক্ষা।

আধিপত্যবাদী মার্কিন নীতির পতন মানে বিশৃঙ্খলা নয়; বরং এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা। এমন এক বিশ্ব, যেখানে শক্তি নয়—আইন কথা বলবে; যেখানে জাতিসংঘ পরাশক্তির হাতিয়ার নয়, বরং সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক ন্যায়ের মঞ্চ হবে; আর যেখানে জনগণের ভোট কোনো পরাশক্তির ইচ্ছার কাছে তুচ্ছ হবে না।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যে সাম্রাজ্য অন্যের স্বাধীনতা পদদলিত করে, আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করে এবং বিশ্বব্যবস্থাকে নিজের ইচ্ছেমতো বাঁকাতে চায়, তার পতন অনিবার্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য ক্ষমতালোভী কূটনীতি এবং নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে বিতর্কিত এই ঘটনা সেই পতনেরই আরেকটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রশ্ন শুধু একটাই—বিশ্ব কি এবার সত্যিই ন্যায় ও আইনের পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি নীরবতার মধ্য দিয়েই আধিপত্যকে বৈধতা দিয়ে যাবে?
###

লেখক সম্পাদক টেলিগ্রাম নিউজ

হামলায় ই’রানের ৪৮ নেতা নিহত : ট্রাম্প

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ
হামলায় ই’রানের ৪৮ নেতা নিহত : ট্রাম্প
শেয়ার করুন

ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে ও ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই’ এগিয়ে চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

রোববার (১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের একটি মাত্র হামলাতেই ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন।

 

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘এক আঘাতেই ৪৮ জন (ইরানি) নেতা খতম হয়ে গেছেন এবং ইরানে এই অভিযান দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদের এই সাফল্য কেউই বিশ্বাস করতে পারবে না।’

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির নতুন নেতৃত্ব কথা বলতে চেয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনিও এতে রাজি হয়েছেন।

 

সিএনবিসি-কে দেওয়া অপর এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান খুব ভালোভাবেই চলছে, এমনকি আমাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও এগিয়ে। আমরা এই কাজ শুধু নিজেদের জন্য করছি না, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই করছি।’

 

এমএস নাও-এর সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি প্রবাসীদের উল্লাস করতে দেখেছেন তিনি।

 

বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের আনন্দঘন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি চমৎকার ব্যাপার।’

প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ
প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী নিহত
শেয়ার করুন

বগুড়ায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সাইফুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকায় নেয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত সাইফুল ইসলাম শহরের মাহবুব নগর এলাকার নওশেদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের খতিব ছিলেন। পাশাপাশি ব্যবসাও করতেন।

 

এর আগে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাহবুবনগর এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন সাইফুল ইসলামকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

 

হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বিকেলে স্বজনেরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহতের ছেলে অভিযোগ করেন, জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

 

 

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম বলেন, জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখালো সাংবাদিক শামস কন্যা জুমা

সাঈদ হোছাইন মিল্লাত
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখালো সাংবাদিক শামস কন্যা জুমা
শেয়ার করুন

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শামস কন্যার সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ

 

বাংলাদেশ বেসরকারি স্কুল বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫-এ সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শামসের কন্যা জায়ানা জান্নাত শামস জুমা।

 

জানা যায়, জুমা বর্তমানে শহরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলি চাইল্ড স্কুল এন্ড কলেজ-এর প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। শিক্ষাজীবনের শুরুতেই তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

 

জুমার এই অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার মেধা ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

এদিকে কন্যার এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শামস সকলের কাছে তার মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে সে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।