খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

নিকোলাস মাদুরো ও আধিপত্যবাদী মার্কিন নীতির নগ্ন মুখ

জসিম উদ্দিন
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
নিকোলাস মাদুরো ও আধিপত্যবাদী মার্কিন নীতির নগ্ন মুখ
শেয়ার করুন

নিজেকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার বিশ্বরক্ষক হিসেবে তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের জুড়ি নেই। বক্তৃতায় নৈতিকতা, ঘোষণায় মানবিকতা—সবই আছে। কিন্তু বাস্তব রাজনীতির ময়দানে এই মুখোশ যতই ঝকঝকে হোক, ভেতরের চেহারা ক্রমেই নগ্ন হয়ে উঠছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই নগ্নতারই সর্বশেষ ও সবচেয়ে ভয়ংকর উদাহরণ।

অন্যায়ভাবে ভেনিজুয়েলায় নজির বিহীন হামলার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র অপহরণ করে নিয়ে গেছে।যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। এটি কেবল ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে আগ্রাসন নয়; এটি গোটা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মুখে সপাটে চপেটাঘাত। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাহস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো যদি এভাবে ভেঙে পড়ে, তবে বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তিই বা কোথায় দাঁড়ায়?

গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী রাষ্ট্র যদি অন্য দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে এভাবে তুলে নিতে পারে, তাহলে গণতন্ত্র শব্দটির আর কোনো নৈতিক ভিত্তি অবশিষ্ট থাকে কি? আরও বড় প্রশ্ন হলো—এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোথায়? আন্তর্জাতিক আইন কোথায়? নাকি পরাশক্তির ক্ষেত্রে আইন প্রযোজ্য নয়, আর দুর্বল রাষ্ট্রের জন্যই কেবল নিয়ম?

যদিও এটি নতুন কিছু নয়। লাতিন আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন আধিপত্যবাদী নীতির পরীক্ষাগার। কখনো সামরিক অভ্যুত্থান, কখনো অর্থনৈতিক অবরোধ, কখনো নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ ঘোষণার কৌশল—সবই পুরোনো রেসিপি। নিকোলাস মাদুরো সেই ধারাবাহিকতারই আরেক নাম। ভেনিজুয়েলার অপরাধ একটাই—তারা ওয়াশিংটনের নির্দেশে দেশ চালাতে রাজি নয়।

এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছেন। তার শাসনামলে কূটনৈতিক ভদ্রতার মুখোশ অনেকটাই ঝরে পড়েছে; নগ্ন ক্ষমতার ভাষাই হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রনীতির প্রধান হাতিয়ার। জাতিসংঘের প্রস্তাব উপেক্ষা, আন্তর্জাতিক চুক্তিকে তুচ্ছ করা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত—সবকিছু মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত প্রমাণ করেছে যে তাদের কাছে আন্তর্জাতিক আইন কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সুবিধামতো ব্যবহারের একটি বিকল্প মাত্র।

মার্কিন নীতির সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি লুকিয়ে আছে তাদের দ্বিমুখী মানদণ্ডে। মধ্যপ্রাচ্যে বা অন্যত্র স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে কোনো দ্বিধা নেই, অথচ লাতিন আমেরিকায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্ট হলেই তিনি ‘স্বৈরাচারী’। মানবাধিকার এখানে নীতি নয়, বরং রাজনৈতিক অস্ত্র—যা ব্যবহার হয় কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী। এই দ্বিচারিতাই জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থাকে ক্রমশ অর্থহীন করে তুলছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক শ্বাসরোধের কৌশল। ভেনিজুয়েলার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির অর্থনীতি কার্যত পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে, যার মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি—সবকিছুর সংকটে ভুগেছে জনগণ। অথচ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও এসব নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো বৈশ্বিক প্রতিরোধ দেখা যায় না। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সংকট তৈরি করা, তারপর সেই সংকট দেখিয়ে নৈতিকতার ভাষণ—এটাই আধিপত্যবাদী রাজনীতির চিরচেনা চক্র।

তবে ইতিহাস এক জায়গায় স্থির থাকে না। একক পরাশক্তির দাপট আজ আর আগের মতো অপ্রতিরোধ্য নয়। নতুন শক্তির উত্থান, আঞ্চলিক জোটের সংহতি এবং বৈশ্বিক জনমতের পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে—বিশ্ব আর জোরের রাজনীতি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনা সেই পরিবর্তনেরই আরেকটি সতর্ক সংকেত, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য এক কঠিন পরীক্ষা।

আধিপত্যবাদী মার্কিন নীতির পতন মানে বিশৃঙ্খলা নয়; বরং এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা। এমন এক বিশ্ব, যেখানে শক্তি নয়—আইন কথা বলবে; যেখানে জাতিসংঘ পরাশক্তির হাতিয়ার নয়, বরং সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক ন্যায়ের মঞ্চ হবে; আর যেখানে জনগণের ভোট কোনো পরাশক্তির ইচ্ছার কাছে তুচ্ছ হবে না।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যে সাম্রাজ্য অন্যের স্বাধীনতা পদদলিত করে, আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করে এবং বিশ্বব্যবস্থাকে নিজের ইচ্ছেমতো বাঁকাতে চায়, তার পতন অনিবার্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য ক্ষমতালোভী কূটনীতি এবং নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে বিতর্কিত এই ঘটনা সেই পতনেরই আরেকটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রশ্ন শুধু একটাই—বিশ্ব কি এবার সত্যিই ন্যায় ও আইনের পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি নীরবতার মধ্য দিয়েই আধিপত্যকে বৈধতা দিয়ে যাবে?
###

লেখক সম্পাদক টেলিগ্রাম নিউজ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচ শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তুহিন, কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সম্রাট আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক রনি খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রাকিব এবং ছাত্রলীগ নেতা সামাদ উল্লাহ।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পৌঁছায়নি।

সাকিবকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
সাকিবকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা
শেয়ার করুন

 

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে নেদারল্যান্ডস। সেই দলের নেতৃত্ব দেবেন স্কট এডওয়ার্ডস। বাংলাদেশ সফরের পর এটি নেদারল্যান্ডসের প্রথম টি-টোয়েন্টি দল। আগের স্কোয়াডের সঙ্গে এই দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

দলে ফিরেছেন সাকিব জুলফিকার। গেল বছরের জুলাইয়ের পর থেকে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচেই খেলেননি তিনি। যার ফলে তার দলে ফেরাটা খানিকটা চমকই উপহার দিয়েছে।

এদিকে রোলোফ ভ্যান ডার মার্ভে, বাস ডি লিডে, মাইকেল লেভিট ও জ্যাক লায়ন-ক্যাশে। তারা সর্বশেষ খেলেছিলেন ইউরোপ অঞ্চল ফাইনালে। ওই টুর্নামেন্টের পর নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিল।

৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার কলিন অ্যাকারম্যানও দলে ফিরেছেন। তিনি সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। ২০২৫ ভাইটালিটি ব্লাস্টে ডারহামের হয়ে ১৪ ম্যাচে তিনি ৩০৪ রান করেন।

৩৪ বছর বয়সী টিম ভ্যান ডার গুগটেনও দলে জায়গা পেয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের পর প্রথমবার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন। ব্লাস্টে তিনি ১০ ম্যাচে ছয় উইকেট নেন।

মিডিয়াম ফাস্ট বোলার লোগান ভ্যান বেকও ফিরেছেন। তিনি সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খেলেছিলেন। এরপর নিউজিল্যান্ডের সুপার স্ম্যাশে ওয়েলিংটনের হয়ে সাত ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেন।

কাইল ক্লেইন ও নোয়া ক্রোস এই দলে আছেন। তবে তারা এখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ খেলেননি। নোয়া ক্রোস এডওয়ার্ডসের ব্যাকআপ উইকেটকিপার।

এই দলে নেই তেজা নিডামানুরু, টিম প্রিঙ্গল ও বিক্রমজিৎ সিং। তারা সবাই বাংলাদেশ সিরিজে ছিলেন। একই সঙ্গে বাদ পড়েছেন সেড্রিক ডি লাঙ্গে, সিকান্দার জুলফিকার, সেবাস্তিয়ান ব্রাট, ড্যানিয়েল ডোরাম, শরিজ আহমেদ ও রায়ান ক্লেইন।

দলের প্রধান কোচ রায়ান কুক। সহকারী কোচ হিসেবে আছেন রায়ান ভ্যান নিইকার্ক ও হেইনো কুন।

বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’-তে খেলবে নেদারল্যান্ডস। তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে। নামিবিয়ার বিপক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৩ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ১৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে।

নেদারল্যান্ডস দল–
স্কট এডওয়ার্ডস, নোয়া ক্রোস, ম্যাক্স ও’ডাউড, সাকিব জুলফিকার, আরিয়ান দত্ত, কাইল ক্লেইন, পল ভ্যান মিকারেন, ফ্রেড ক্লাসেন, কলিন অ্যাকারম্যান, বাস ডি লিডে, মাইকেল লেভিট, জ্যাক লায়ন-ক্যাশে, লোগান ভ্যান বেক, রোলোফ ভ্যান ডার মার্ভে ও টিম ভ্যান ডার গুগটেন।

শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট এস এ আল মোমেন, আবারও শ্রেষ্ঠ গ্রুপ কক্সবাজার সরকারি কলেজ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট এস এ আল মোমেন, আবারও শ্রেষ্ঠ গ্রুপ কক্সবাজার সরকারি কলেজ
শেয়ার করুন

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা ও সদর উপজেলা পর্যায়ে বিএনসিসি শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট পদবী অর্জন করেছেন কক্সবাজার সরকারি কলেজ বিএনসিসি নৌ শাখার প্লাটুন ইনচার্জ ক্যাডেট আন্ডার অফিসার এস এ আল মোমেন।

একই সঙ্গে টানা ৮ম বারের মতো শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি গ্রুপ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে কক্সবাজার সরকারি কলেজ বিএনসিসি নৌ শাখা। শিক্ষা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে ধারাবাহিক সাফল্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, ক্যাডেট এস এ আল মোমেনের নিষ্ঠা, নেতৃত্বগুণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অন্যান্য ক্যাডেটদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে নৌ শাখার ধারাবাহিক সাফল্য কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।

এই অর্জনে কলেজ প্রশাসন, বিএনসিসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে।